• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন
Headline
ক্ষমতার বলয়ে নজরদারি: মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা ঢাকার নতুন সমীকরণে দিল্লির কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস: টানাপোড়েন ছাপিয়ে বাস্তববাদী সম্পর্কের পথে দুই প্রতিবেশী দারুচিনিতে যেসব উপকার জ্বালানি সংকটে চিনির বাজারে আগুন সংস্কারের ফাইলবন্দি সুপারিশ: বদলায়নি আমলাতন্ত্রের চালচিত্র পদ্মাপাড়ে বোমার চর: পঙ্গুত্ব ও বিচারহীনতার চার দশক পেশাদারিত্বের ঘাটতি না অজ্ঞতার মাশুল: ফিফার নিষেধাজ্ঞার জালে দেশের ফুটবল গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তায় আলাদা অধিদপ্তর: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আপনার রেখে যাওয়া বাগানে অনেক ফুলই ফুটেছে: আব্দুল মালেক স্মরণে জামায়াত আমির হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৯০০ ছাড়াল

জ্বালানি সংকটে চিনির বাজারে আগুন

Reporter Name / ০ Time View
Update : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

দেশব্যাপী চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে। গৃহস্থালি কিংবা পরিবহন খাতের ভোগান্তি ছাপিয়ে এই সংকট এখন সরাসরি আঘাত হেনেছে দেশের ভারী শিল্প উৎপাদন খাতে। প্রয়োজনীয় চাপের অভাবে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিশোধিত চিনির উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায়। গত কয়েক দিন ধরে প্রধান প্রধান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় পাইকারি মোকামে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং হঠাৎ করেই পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।
দেশে বছরে প্রায় ২২ লাখ মেট্রিক টন চিনির অভ্যন্তরীণ চাহিদা রয়েছে। এই বিপুল চাহিদার সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯৮ শতাংশের বেশি পূরণ করা হয় বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির মাধ্যমে। দেশের হাতে গোনা কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগ্রুপ এই কাঁচামাল আমদানি করে নিজস্ব কারখানায় প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বাজারজাত করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক জটিলতা ও পরিচালনা সংকটের কারণে এস আলম এবং দেশবন্ধু সুগার মিলের উৎপাদন আগে থেকেই বন্ধ ছিল। ফলে সিটি গ্রুপের তীর, মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এবং আবুল খায়ের গ্রুপের স্টার শিপ কারখানার ওপরই পুরো দেশের সরবরাহ বহুলাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু সম্প্রতি গ্যাস না থাকায় এই সক্রিয় কারখানাগুলোর উৎপাদন ইউনিটও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
উৎপাদন বন্ধ থাকার প্রভাবে দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে চিনির দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি মণ চিনির পাইকারি দর প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যে চিনি কয়েক দিন আগেও মণপ্রতি ৩ হাজার ৬৫০ থেকে ৩ হাজার ৬৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা বেড়ে ৩ হাজার ৭২৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কারখানাগুলোতে নতুন পণ্য প্রস্তুত না হওয়ায় সরবরাহ আদেশ বা ডিও ডেলিভারিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। এমনকি ডিও কেনার পরও সরবরাহ পেতে এক সপ্তাহের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গুদামে মজুত থাকা সীমিত পণ্য দিয়ে সাময়িকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানার মজুত প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দৈনিক বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করা হতো, সেখানে সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছে। নতুন করে গ্যাস সংযোগ স্বাভাবিক না হলে এবং উৎপাদন অবিলম্বে শুরু করা না গেলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ পুরোপুরি থমকে যেতে পারে। এমনটি হলে সাধারণ ভোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিস্কুট, বেকারি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য প্রস্তুতকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও কাঁচামালের তীব্র সংকটে পড়বে।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু দেশীয় ক্ষেত্র এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস মিলিয়ে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১০০ থেকে ২২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটিতে সাম্প্রতিক কারিগরি ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যটিতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে খালাস বন্ধ থাকায় এই আকস্মিক ঘাটতি তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে টার্মিনালগুলো থেকে এলএনজি খালাস পুনরায় শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাইপলাইনে কাঙ্ক্ষিত চাপের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সরবরাহ চেইনের এই বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category