আধুনিকায়নের এক অভাবনীয় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ আজ এক নীরব ও অদৃশ্য আগ্রাসনের শিকার। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা আমাদের জীবনযাত্রাকে যেমন সহজ করেছে, ঠিক তেমনি এর অন্ধকার গলিপথ ধরে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এক ভয়ংকর আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র। একসময় যে বাংলাদেশ ছিল কেবলই একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ, সেই দেশটিই আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ সিন্ডিকেটগুলোর কাছে অন্যতম প্রধান ‘হটজোন’ বা অপারেশনাল হাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রান্সন্যাশনাল বা আন্তঃদেশীয় সাইবার সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশকে তাদের অপরাধ সাম্রাজ্যের এক নিরাপদ চারণভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি অভিজাত বাড়ি থেকে একসঙ্গে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিকের আকস্মিক গ্রেপ্তারের ঘটনাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল সতর্কবার্তা। এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের চিত্র নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে, পর্যটক বা সাধারণ ভিসার আড়ালে আমাদের দেশের অভিজাত এলাকাগুলোতে বসে ভিনদেশি সাইবার মাফিয়ারা কী বিশাল এক অপরাধের জাল বুনে চলেছে।
ভূকৌশলগত এবং আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভিনদেশি অপরাধীদের এই দেশান্তরী হওয়ার পেছনে এক সুনির্দিষ্ট বৈশ্বিক পটভূমি রয়েছে। কয়েক বছর আগেও এই সাইবার সিন্ডিকেটগুলোর মূল ঘাঁটি ছিল চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম কিংবা ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোতে। কিন্তু সম্প্রতি চীন ও কম্বোডিয়া সরকার অনলাইন জুয়া এবং স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর নীতি গ্রহণ করে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। এই দুই দেশের ধারাবাহিকতায় ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম সরকারও সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। রাষ্ট্রীয় এই কঠোর অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে এশিয়াভিত্তিক এই বিশাল সাইবার মাফিয়া চক্রগুলো তাদের অপারেশনাল হাব পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দিকে নতুন করে মনোযোগ দেয়। তাদের নতুন টার্গেট হিসেবে বাংলাদেশের নাম উঠে আসার প্রধান কারণ হলো এ দেশের দ্রুত সম্প্রসারণশীল ইন্টারনেট ব্যবস্থা, মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস সেবার ব্যাপক বিস্তার এবং সাইবার ও আর্থিক অপরাধ দমনে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ফরেনসিক সক্ষমতার তুলনামূলক দুর্বলতা। এই কাঠামোগত ফাঁকফোকরগুলোকে অত্যন্ত সুকৌশলে কাজে লাগিয়ে তারা বাংলাদেশকে সাইবার অপরাধের এক নতুন বৈশ্বিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
এই আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর কাজের ধরন ও অপরাধের পরিধি এতটাই বিস্তৃত ও অত্যাধুনিক যে, তা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী কিংবা খেলোয়াড় ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে এরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। এরপর সেখানে গড়ে তোলে অনলাইন ক্যাসিনো, স্ক্যামিং এবং ব্ল্যাকমেলিংয়ের ভয়ংকর সব আন্ডারওয়ার্ল্ড বা সাবস্টেশন। প্রযুক্তিগত নজরদারি এড়াতে এসব অনলাইন ক্যাসিনো ও স্ক্যামিং সাইটগুলোর মূল সার্ভার বা হোস্টিং রাখা হয় রাশিয়া, মাল্টা, সাইপ্রাস এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অজ্ঞাত দেশে। ডার্ক ওয়েব বা নির্দিষ্ট আন্ডারগ্রাউন্ড প্রোভাইডারের কাছ থেকে ‘হোয়াইট-লেবেল’ রেডিমেড ক্যাসিনো সফটওয়্যার কিনে নিয়ে এরা স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা পরিচালনা করে। শুধু অনলাইন ক্যাসিনো নয়, এদের অপরাধের তালিকায় রয়েছে ব্যাংকের এটিএম বুথে অভিনব জালিয়াতি, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি ও ক্লোনিং, অপ্রচলিত ও কৃত্রিম মাদকের কারবার, অবৈধ অস্ত্র পাচার, জাল মুদ্রা তৈরি, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং মানব পাচারের মতো জঘন্য সব কর্মকাণ্ড।
সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটি হলো এদের প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল এবং সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার মনস্তাত্ত্বিক খেলা। এই বিদেশি সাইবার চক্রগুলো মূলত তৈরি পোশাক খাতের মাঝারি ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার এবং চট্টগ্রামভিত্তিক আমদানি-রপ্তানিকারকদের টার্গেট করে থাকে। ‘বিজনেস ইমেইল কম্প্রোমাইজ’ বা ব্যবসায়িক ইমেইল হ্যাক করে এরা বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। পাশাপাশি ভুয়া বিনিয়োগ স্কিম, ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট এবং বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে। এদের প্রতারণার জাল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নিঃসঙ্গ বয়স্ক মানুষেরাও। প্রতারক চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে মাসের পর মাস ধরে কথা বলে। নিজেদের ভুয়া অভিজাত জীবনযাপন প্রদর্শন করে, দামি উপহার পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ছবি বা ভিডিও কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ওপর এক গভীর মানসিক নির্ভরতা তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত এই আবেগের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান দেশের বহু প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এছাড়া ফিশিং লিঙ্ক পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর মোবাইল ও আইডির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং অ্যাপের মাধ্যমে উচ্চসুদে ঋণ দেওয়ার নামে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য চুরি করে ব্ল্যাকমেলিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদায়ের ঘটনা এখন নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপরাধের এই বিস্তীর্ণ জাল বিছিয়ে এরা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, তা পাচারের জন্য তারা ব্যবহার করছে দেশের এক অদৃশ্য ‘শ্যাডো ইকোনমি’ বা ছায়া অর্থনীতিকে। লেনদেনের ক্ষেত্রে সামান্য কমিশনের বিনিময়ে এরা স্থানীয় কিছু অসাধু বাংলাদেশি এজেন্ট নিয়োগ করে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএসের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে তা একাধিক অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে স্থানান্তর করে অর্থের মূল উৎসকে চিরতরে গোপন করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ মো. শাখাওয়াত হোসেনের মতে, বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে এমএফএসে আসা অর্থ এই চক্রগুলো খুব দ্রুত স্থানীয় এজেন্টদের সাহায্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। দেশের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নজরদারি থাকলেও, এই ভার্চুয়াল মুদ্রা এবং এমএফএসের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বিদেশিদের অর্থ পাচারের এক আদর্শ ও নিরাপদ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এই ছায়া অর্থনীতি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্য এই নীরব আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একেবারে নিশ্চুপ বসে নেই। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের ভাষ্যমতে, বিদেশিদের এই প্রতারণার জাল দেশে সব সময়ই ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও মনিটরিং বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত দুই বছরে শুধু রাজধানী ঢাকা থেকেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অর্ধশতাধিক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিদেশি এই সাইবার অপরাধীদের মধ্যে মূলত চীনা ও নাইজেরিয়ান নাগরিকদের আধিক্য সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, অবৈধভাবে অবস্থান, অপরাধে সম্পৃক্ততা কিংবা অপরাধ করে দেশত্যাগের চেষ্টা রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। অপরাধীর জাতীয়তা বা পরিচয় এখানে বিবেচ্য নয়; অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অভিযানের পাশাপাশি অপরাধীদের ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। কক্সবাজারে গ্রেপ্তার হওয়া একটি চক্রের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তথ্যমতে, ওই চক্রটি স্থানীয় ইন্টারনেট প্রোভাইডারের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি ‘স্টারলিংক’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণা পরিচালনা করছিল। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তারা খুব সহজেই দেশীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়। জব্দ করা আইফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই চক্রের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধীরা যখন স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডার্ক ওয়েবে বিচরণ করছে, তখন আমাদের সনাতন সাইবার মনিটরিং ব্যবস্থা দিয়ে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যে এক প্রকার অসম্ভব, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এই অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর আমাদের বিচারিক ও কারাব্যবস্থার কিছু দুর্বলতাও প্রকট হয়ে উঠছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে চার শতাধিক বিদেশি বন্দি রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই চীনা, আফ্রিকান ও ভারতীয় নাগরিক। কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এসব বিদেশি বন্দিদের নিরাপত্তার স্বার্থে আলাদা রাখা হয় এবং তাদের নিজ নিজ দেশের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মিল রেখে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি যাদের আইনজীবী নিয়োগের আর্থিক সক্ষমতা থাকে না, রাষ্ট্রীয় খরচে তাদের সরকারিভাবে আইনজীবীর ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অপরাধীদের অনেকেই আইনি ফাঁকফোকর গলে খুব সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসছেন এবং পুনরায় একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। অনেক বিদেশি নাগরিক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে আঁতাত করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এই ‘রিভলভিং ডোর’ বা ঘূর্ণায়মান বিচারিক ব্যবস্থার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শত শত সফল অভিযানও শেষ পর্যন্ত খুব একটা টেকসই ফল বয়ে আনতে পারছে না।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক অত্যন্ত যথার্থভাবেই বলেছেন যে, বিদেশিদের এই ক্রমবর্ধমান ও বহুমুখী তৎপরতা প্রতিহত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিগত উন্নতিসাধনের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানকারী অবৈধ বিদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধীদের নিরাপদ চারণভূমি হতে পারে না। এই সংকট উত্তরণে আমাদের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কঠোর করতে হবে, যাতে ট্যুরিস্ট বা স্টুডেন্ট ভিসার আড়ালে কোনো পেশাদার অপরাধী দেশে প্রবেশ করতে না পারে। মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম চালু করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
পরিশেষে এটি বলা যায় যে, ভিনদেশি এই সাইবার মাফিয়াদের জাল ছিন্ন করতে হলে কেবল পুলিশি অভিযানই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সাধারণ নাগরিকদের একটি সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষকে অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া অ্যাপ এবং বিনিয়োগ স্কিম সম্পর্কে ব্যাপকভাবে সচেতন করতে হবে। আমাদের সাইবার স্পেসকে অরক্ষিত রেখে ডিজিটাল অর্থনীতির সুফল কখনোই পুরোপুরি ঘরে তোলা সম্ভব নয়। এখনই যদি আমরা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটগুলোর শেকড় উপড়ে ফেলতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই সাইবার অপরাধীরা কেবল আমাদের অর্থনীতিকেই ধ্বংস করবে না, বরং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও এক স্থায়ী ও ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।