যুক্তরাষ্ট্রের জনএফ কেনেডি বিমান বন্দরে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার পর ফেসবুকে এক পোস্টে লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, “হি ইজ ডুইং জাস্ট ফাইন”, অর্থাৎ, তিনি একদম ঠিক আছেন। মঙ্গলবার ইউনূস সেন্টারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর লামিয়া মোরশেদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দুইটি ছবি দিয়ে ইংরেজিতে এই স্ট্যাটাস দেন।
“জেএফকে বিমানবন্দরে ওই বর্বর হামলা চালানোর ঠিক কয়েক মিনিট আগে ছবিগুলো আমি তুলেছিলাম। এই পুরো যাত্রায় অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা” – লিখেছেন তিনি।
“তিনি একদম ঠিক আছেন। এটি কেবল ওই বর্বরদের চরম নিষ্ঠুরতা এবং তারা যে কতটা করুণ সেটি প্রকাশ করেছে। স্যারের কাছে তাদের কোনো মূল্যই নেই। যারা অনেক সমর্থন করে বার্তা দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ, প্রিয় বন্ধুরা।”
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এক্ষেত্রেও সেটি করা হবে। “আমরা এই কথা বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বলতে চাই, তারা যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে সেটা আনচ্যালেঞ্জড যাবে না,” বলেন তিনি। একইসঙ্গে, অধ্যাপক ইউনূসের যে মর্যাদা পাওয়ার কথা তাতে ঘাটতি হয়েছে কি না সেটিও বাংলাদেশ সরকার খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা মি. রহমান বলেন, “এই ক্ষেত্রে কোনো রকম ঘাটতি হয়েছে কি না…তিনি যে মর্যাদা পাওয়ার কথা, সেখানে কোনো ঘাটতি হয়েছে কি না সরকার নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখবে।”
“মানবতাবিরোধী অপরাধ করে আওয়ামী লীগ দেশ থেকে চলে যাওয়ার পরেও তারা অনুতপ্ত তো নয়ই, বরং তারা নানা রকম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“সুতরাং যে দলটা এইরকম কাজ করে বেড়ায় এবং দেশের ভেতরে সন্ত্রাস এবং নানান রকম সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা প্রকাশ্যে তাদের দলের প্রধান করে থাকেন, সেখানে আসলে রিকনসিলিয়েশনের আলাপের ব্যাপারে সরকারের যা বোঝার তা বোঝা হয়ে যায়। সরকারের দিক থেকে ইনিশিয়েটিভ নেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে আমরাই চাই শেখ হাসিনা আসুক। উনি (যদি) চলে আসেন, তাহলে আমাদের কোনো ধরনের কোনো সমস্যা নেই,” বলেন জাহেদ উর রহমান।