দীর্ঘ ২০ বছর পর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে প্রথমবারের মতো পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সহিংসতা ও কঠোর অবরোধের বাস্তবতার মধ্যেও দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন এ অঞ্চলের ফিলিস্তিনিরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হামাসের অবস্থান ও নির্বাচনের চিত্র
২০০৬ সালের পর এই প্রথম গাজার কোনো শহরে স্থানীয় পর্যায়ে ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলো। দেইর আল-বালাহ শহরটি এখনো ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস সরাসরি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীকেও সমর্থন দেয়নি। তবে হামাসপন্থি কিছু প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখ্য, প্রায় ২০ বছর আগে গাজায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে হামাস জয়লাভ করেছিল।
নাগরিকদের মাঝে উচ্ছ্বাস ও নতুন শুরুর আশা
দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।
৩৪ বছর বয়সী আধহাম আল-বারদিনি বলেন, “আমার জীবনে আমি প্রথমবারের মতো এই অনুভূতি পাচ্ছি। জন্মের পর থেকেই নির্বাচনের কথা শুনেছি, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে কখনো নির্বাচনের অনুভূতি পাইনি। এবার যখন সুযোগ পেয়েছি, সেটা আর হারাতে চাই না।”
২৫ বছর বয়সী তরুণ আবদুল-রহমান আল-শাফ বলেন, “দুই বছরের যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর সবাই দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চায়। তাই এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ সবার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ ও সংকটের মধ্যেও এই নির্বাচন গাজার থমকে থাকা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে পারে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আরও বড় পরিসরে রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।