• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
Headline
সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ রিমান্ড শেষে কারাগারে টেলবোন ব্যথার লক্ষণসমূহ মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক সুরক্ষায় কনস্যুলার সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে: হুমায়ুন কবির প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ফল প্রকাশ পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা তদারকি করবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী: মীর শাহে আলম সব ষড়যন্ত্র প্রতিহতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : টুকু রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে: ভূমিমন্ত্রী মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,১৮১

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

Reporter Name / ১ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শুধু নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ালেই চলবে না, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায়ও তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন।

তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, নাগরিকদের মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুরক্ষিত থাকবে। তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে ইতিবাচক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কাজে লাগানো গেলে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ সম্ভব হবে।

দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যত বড় বড় আন্দোলন হয়েছে, সেগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন তরুণরা। সামাজিক মর্যাদা, সমতা ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তরুণেরা বারবার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত চূড়ান্ত তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন তরুণ। এ প্রসঙ্গে তিনি তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, তরুণদের এই শক্তি ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। অতীতের অর্জন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকেই নিতে হবে।

তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশে গেলেও দেশে ফিরে এসে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্বের হাল ধরতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশকে পিছিয়ে পড়ার অবস্থা থেকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকল্প নেই।

নেতৃত্বের গুণাবলি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মতভিন্নতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে শুধু নিজের মত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে অন্যের যুক্তি বোঝার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে তার যুক্তি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্বের অর্থ শুধু নিজে নেতৃত্ব দেওয়া নয়, বরং অন্যদেরও কাজ করার ও মত প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া। এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় হয় এবং অর্থপূর্ণ সহযোগিতার পথ তৈরি হয়।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, বিতর্ক ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তরুণদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। সংসদীয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে তরুণেরা গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।

দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।

সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তরুণদের নেতৃত্বের সক্ষমতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে চিন্তাভাবনার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানের এ সেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category