গতকাল দেশব্যাপী সতর্কতা জারি করেছিল পুলিশ সদর দফতর। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী, যেটা নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী, তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম আগস্ট মাসে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি।’ রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদায় বিসিএস পুলিশ প্রশাসনের ২৭তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকার মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক তদন্ত চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গতকাল মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পাওয়ার পরও নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি পরীক্ষা করা হয়। পরে দেখা যায়, ব্যাগটিতে কোনো বোমা বা বিস্ফোরক ছিল না।
তিনি আরও বলেন, কোথাও কোনো পরিত্যক্ত ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তা পরীক্ষা করে। কেউ নাশকতার উদ্দেশ্যে কোনো পরিকল্পনা করছে কি না, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গত পাঁচ-ছয় মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, বোমা রেখে যাওয়া বা এ ধরনের ঘটনার হার তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তিনি বলেন, এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সতর্ক রয়েছে। পুলিশ ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকে, যাতে নাশকতার যেকোনো সম্ভাব্য পরিকল্পনা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যায়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। বরং এই বাহিনীকে হতে হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক একটি সংস্থা।
এ সময় মন্ত্রী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আরও বলেন, একটি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করায় চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।
ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরিশেষে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নবীন কর্মকর্তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে আসা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ম পর্যায়ের অফিসারদের অভিনন্দন জানান।
ছয় মাসব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ৬ মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের ৫৮ জন প্রশিক্ষণার্থী সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি। অভিবাদন গ্রহণ শেষে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার এবং বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড- এই দুই ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ এ, বি, এম মামুন।
সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সহকারী পুলিশ সুপারগণ বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।