• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
Headline
২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার চালুর লক্ষ্য আসামে দুই দিনে ১,১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ; গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বাড়িঘর ও ১০ মসজিদ নতুন অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ চুরির দায়ে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানে আপত্তি নেই, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: জামায়াত আমির রাজনীতিবিদদের রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠিত: চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান টোকিওতে ২৭ অক্টোবর তারেক-তাকাইচি বৈঠক বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের রাজশাহীতে আখচাষীদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

নাটোরে বালুর ট্রাকে বাসের ধাক্কায় ১২ জন নিহত

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ১২ জন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক জানিয়েছেন, বরগুনা থেকে রাজশাহীগামী আরপি স্পেশাল বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতালসহ স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের সবার পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে বলে জানান বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। মরদেহগুলো প্রাথমিকভাবে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিতের পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে নাটোরের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানন তিনি। এখন থেকে ঠিক এক যুগ আগে ২০১৪ সালের ২০শে অক্টোবর এই বড়াইগ্রামেই এমন একটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছিল।

বরগুনা থেকে রাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাসটি নাটোরে পৌছাতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে এবং ভোরে বাসটির চালক ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলেও প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। এদিকে, বাসের ৩ জন যাত্রী জানিয়েছেন, আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটি দুর্ঘটনার সময় চালাচ্ছিলেন এটির সুপারভাইজার সোহেল রানা। এ সময় চালক ও সহকারী পেছনের সিটে ঘুমাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহেল রানা আগে বাসের চালক ছিলেন। বছর দুয়েক আগে তিনি বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. গুমনী আক্তার জানান, দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি আরো জানান, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি দাফনসহ অন্যান্য সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “ট্রাকটি কিন্তু তার লাইনেই ছিল। বাসের ড্রাইভারের তন্দ্রা বা ঘুম ভাব চলে এসেছিল। সে কারণেই ট্রাকটিকে ধাক্কা দিয়েছে”। বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ায় বাস ও ট্রাক দুইটি পরিবহনেরই চালক নিহত হয়েছে। এছাড়া বাসের সামনের দিকে যারা ছিল তাদের অনেকেই এই দুর্ঘটনায় নিহত হন।

বরগুনা থেকে আসা আরপি পরিবহনের বাসটি বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনাটির পরই ঘটনাস্থলে পৌছায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। বাসটিতে থাকা যাত্রী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার শরিফুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, “বালুবাহী যেই ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে সেই ট্রাকটি বাম লেনেই ছিল। কিন্ত বাসটি হঠাৎ রাইট সাইডে চলে যাওয়ার পরই মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়”। এই দুর্ঘটনায় আরপি স্পেশাল বাস ও ট্রাক দুইটিরই চালক নিহত হয়।

ঘটনার পরপরই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাসটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দুপুর পর্যন্ত বালুবাহী ট্রাকটিকে রাস্তা থেকে সরানো যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বরগুনা বরিশাল থেকে বাসটি ছেড়ে এলে পথে মাদারীপুরসহ কয়েকটি জায়গা থেকে বাসটিতে উঠেছিল যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা ১৪ জন জানানো হলেও পরবর্তীতে ১২ জনের কথা নিশ্চিত করে।

উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা হলেন- রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিশু তাছফিয়া (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আব্দুস সামাদ ফকির (৭০), জুয়েল (৪০), সালাম মোল্লা (৪৬), কাশেম (৩৫),শাহীন (৩২),শহিদুল ইসলাম (৪৫), ট্রাক ড্রাইভার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আবুল কালাম (৫৬)। নওগাঁর সান্তাহারের ঘোনঠোলা এলাকার রাসেল আলী(৩৩), ফরিদপুর সদরের হিমেজ জামাদার। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত বাসের ড্রাইভার মো. সোহেল রানা (৪০) তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “নিহত ১২ জনের বাইরেও হাসপাতালে যাদের ভর্তি করা হয়েছে তাদের বেশ কয়েকজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহত বেশিরভাগকেই রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে”।

সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই ঘটনায় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category