আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও শতভাগ নিরাপদ করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ঈদযাত্রায় নৌপথে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
রোববার (১০ মে) সকালে ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
নৌমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নৌপথের শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন। যাত্রীদের ভোগান্তি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি বলেন:
প্রকৃতির অমূল্য উপহার: “আমাদের এই নদীমাতৃক দেশের নৌপথগুলো অনেকটাই প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপদ এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ করতে হলে এর প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
মালিকদের জবাবদিহিতা: ঈদে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অনেক সময় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দেখা যায়। এ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নৌপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে লঞ্চ মালিকদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। কোনোভাবেই ঘাটে বা মাঝনদীতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান নৌপথের নিরাপত্তার বিষয়ে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন:
অনুমোদনহীন নৌযান বন্ধ: আসন্ন ঈদে কোনোভাবেই অনুমোদনহীন এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান চলতে দেওয়া হবে না। যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের প্রতি নির্দেশ: যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ছোট নৌপথগুলোতে বিশেষ নজরদারি: বড় নদীগুলোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ছোট ছোট নৌপথে এখনো কিছু অনুমোদনহীন ও অবৈধ নৌযান চলাচল করে, যা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের এসব ছোট রুটে নজরদারি আরও বাড়ানোর এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই নৌপথ। সরকারের এই কঠোর অবস্থান, নিয়মিত তদারকি এবং নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের এই উদ্যোগ সাধারণ যাত্রীদের ঈদযাত্রাকে এবার অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করবে বলে আশা করা হচ্ছে।