• শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

পাহাড়ে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে আরবের আলুবোখারা

Reporter Name / ৪৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০২৪

আদা, হলুদ, কলা ও কাঁঠালের উৎপাদন ভূমি খ্যাত পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে মসলা জাতীয় ফসল আলুবোখারা। প্রথমবারের মতো আলুবোখারা চাষে সফল হয়েছেন খাগড়াছড়ির কৃষক ম্রাসাথোয়াই মারমা। ম্রাসাথোয়াই মারমা ছাড়াও অনেকেই আলুবোখারা চাষে ঝুঁকছেন।

পাহাড়ি জনপদে আরবের আলুবোখারা চাষে সাফল্য হাতছানি দিলেও হতাশ কৃষক ম্রাসাথোয়াই মারমা। আলুবোখারা প্রক্রিয়াজাত করতে প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। আলুবোখারা প্রক্রিয়াজাত করতে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে এ ফসল বিক্রি করে কৃষকেরা লাভবান হবে বলে মনে করেন এ কৃষক।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মিশ্র মসলা চাষ প্রকল্পের আওতায় ১২০টি আলুবোখারার গাছের চারা লাগান কৃষক ম্রাসাথোয়াই মারমা। উচ্চমূল্যের আলুবোখারা চাষ করলেও প্রক্রিয়াজাত করার প্রক্রিয়া না জানায় হতাশ তিনি। গাছের নিচে নষ্ট হচ্ছে বাগানের ফল।

পাহাড়ে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে আরবের আলুবোখারা

আলুবোখরা মূলত বিদেশি ফল। এটি পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, সালাদ, জ্যাম, জেলি, আচার এবং বোরহানিসহ নানা অভিজাত খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে ফলটি সাধারণত ভারত থেকে আমদানি করা হয়। সপ্তদশ শতাব্দিতে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে আলুবোখারার উন্নত জাতগুলো উদ্ভাবিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় শীত প্রধান ও অল্প উষ্ণ এলাকায় ব্যাপকভাবে আলুবোখারা চাষ হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ও ভারতে একে আলুবোখারা নামে ডাকা হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত বারি আলুবোখারা-১ জাতটি ২০১৩-১৪ সালে অনুমোদন করা হয়। এর গাছ মাঝারি আকারের, পাঁচ-ছয় মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট হয়ে থাকে।

আমাদের দেশে এর চাহিদা অনেক। দেশের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় প্রতি বছর। কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়াজাত করতে না জানার কারণে বাগানেই নষ্ট হচ্ছে আলুবোখারা।

পাহাড়ে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে আরবের আলুবোখারা

আমাদের দেশে আলুবোখারা আমদানি নির্ভর জানিয়ে কৃষক ম্রাসাথোয়াই মারমা বলেন, ‘যেহেতু আমাদের পাহাড়ে চাষ করা সম্ভব হচ্ছে, তাই দেশের টাকা দেশে রাখা সম্ভব হবে। প্রক্রিয়াজাত করার জন্য সাধারণ কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অভিজ্ঞ করে তুলতে হবে। তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।’ পাশাপাশি দেশে আলুবোখারার বিদেশ নির্ভরতা কমবে বলেও মনে করছেন তিনি।

কৃষিবিদদের মতে, পাহাড়ের আবহাওয়া আলুবোখারা চাষে খুবই উপযোগী। পাহাড়ি অনাবাদি পতিত জমিতে চাষ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। বাড়ির উঠানেও এ ফল চাষ করা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। উচ্চ পুষ্টিমান, সুগন্ধিযুক্ত এবং ভেষজ গুণের কারণে এটি বেশ সমাদৃত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category