দীর্ঘ আট মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী এবং সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন। স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়াসহ নানা জটিলতায় ভোগা এই নেতার মৃত্যুর গুজব গত বছরের অক্টোবর মাসেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এবার দীর্ঘ শারীরিক লড়াইয়ের পর বাস্তবেই বিদায় নিলেন তিনি।
তাঁর শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে ব্যক্তিগত সহকারী আবুল খায়ের বিস্তারিত জানিয়েছেন। সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর ধানমন্ডির ত্বাকওয়া মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর নিথর দেহ সংরক্ষণের জন্য স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে তাঁর মরদেহ জন্মস্থান ভোলায় নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ভোলা সার্কিট হাউজ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন সাবেক এই মন্ত্রী।
জীবনের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে গুরুতর অসুস্থতার পাশাপাশি আইনি জটিলতাতেও পড়তে হয়েছিল তোফায়েল আহমেদকে। তিনি কাউকে চিনতে পারছিলেন না এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। এত অসুস্থতা সত্ত্বেও গত ৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি পুরোনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়ের করেছিল, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধভাবে স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিংয়ের প্রধান হিসাবরক্ষক ও ভোলার মোশারফ হোসেনের যোগসাজশে সোনালী ব্যাংক থেকে এই অর্থ উত্তোলনের কথা বলা হয়। বিগত সরকারের আমলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও সম্প্রতি তা আবার সচল হয়েছিল।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্ররাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র; ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দেন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তিনি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।