• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
Headline
আলিয়ঁসে আজ শুরু হলো যৌথ চিত্রপ্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’ পুশ-ইন ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা চলছে: ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক আকাশচুম্বী টিকিটের দাম: বিশ্বকাপের ফাঁকা গ্যালারি নিয়ে উদ্বেগ শ্রমিকের হাহাকারে মালিকদের বিপুল ভাগ্য ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্তে হতবাক নেতানিয়াহু, জানতেন না কিছুই! ট্রাম্পের নতুন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ও সমঝোতার নেপথ্য কথা ইরানের সঙ্গে কাতারের গোপন আঁতাত! ফাঁস করল ওয়াশিংটন পোস্ট ছুটির দিনের বিকেলে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি, ভোগান্তিতে পথচারী সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করলেন গভর্নর

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের’ আখ্যা দিল জামায়াত

Reporter Name / ২ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

বিএনপি সরকারের ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে অধিক ঋণনির্ভর, উচ্চাভিলাষী, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বাজেট বিষয়ে দলের এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও শঙ্কা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জনগণ একটি জনবান্ধব, সুপরিকল্পিত ও দূরদর্শী বাজেট প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু সরকারের ঘোষিত এই বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নের কোনো সুস্পষ্ট বার্তা প্রতিফলিত হয়নি।

বাজেটের বিভিন্ন কাঠামোগত দুর্বলতা ও ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের আর্থিক সংস্থান করতে গিয়ে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার যে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা কীভাবে আদায় করা হবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। এই বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৫ শতাংশ। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অতিমাত্রায় অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে স্থবিরতা আনবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। দক্ষ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে কার্যকর সংস্কারের প্রতিফলন না থাকায় এই বিপুল অঙ্কের বাজেট বাস্তবায়নের সময় দুর্নীতি, অপচয় এবং লুটপাটের ঝুঁকি অনেক বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি বাধার কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে অর্থনীতির সব খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্বিতীয়ত, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এবং তৃতীয়ত, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, যেখানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) বিভিন্ন সংস্থা আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে, সেখানে সরকারের ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করা হলেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করায় এটি মূলত দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সাথে ন্যূনতম ব্যক্তিগত করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি ‘ছায়া বাজেট’ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যেখানে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৬৫ bin ৯২৬ কোটি টাকা এবং বাজেট ঘাটতি ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা (জিডিপির ২.৪৩ শতাংশ)। গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের ছায়া বাজেট সরকারের তুলনায় কম ঘাটতি ও কম ঋণনির্ভর। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দুর্নীতি রোধ করতে জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার বছরভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। পাশাপাশি করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান বাজেটে পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তৈরি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) কাঁচামালের ওপর ব্যয় ও কর বৃদ্ধি করায় শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি খাত হুমকির মুখে পড়বে। বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ গণবিরোধী ও হঠকারিতা। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যাংক রেজোলিউশন আইন করে জনগণের অর্থ লুটপাট এবং ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও পর্ষদ কাঠামো পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক পছন্দ অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতির মতো যদি ব্যাংকিং খাতে এই নৈরাজ্যপূর্ণ অবস্থা অব্যাহত থাকে, তবে বেকারত্ব বাড়বে ও গোটা অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়বে। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে এই লুটপাটনির্ভর বাজেট সংশোধন করে ৩০ জুনের আগে সংসদে যথাযথ আলোচনার মাধ্যমে একটি জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নের জোর দাবি জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category