• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
Headline
আমাদের ১০টি কমন স্বভাব টাকা ছাপিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংককে ঋণ দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাবিতে নেকাব পরা শিক্ষার্থীকে অপমান ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত ঘোষণা করল বিজেপি সরকার মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর দীর্ঘ বৈঠক, তারেক রহমানের সফর নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক ১২ ডিসেম্বরের আগেই নবায়ন হবে গঙ্গা চুক্তি: পানিসম্পদমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেবে সরকার: রিজভী ভিসা সহজীকরণ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি জোরদারে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাহ্দী আমিনের বৈঠক দুর্নীতি করে শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার: মাহদী আমিন

বছরে কমছে ৬৯ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের মতো একটি বিপুল জনসংখ্যার ও সীমিত আয়তনের দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় এবং নীরব বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কৃষিজমির ক্রমবর্ধমান সংকোচন। একদিকে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে জনসংখ্যা, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণ এবং আবাসনের বিপুল চাহিদা। এই বহুমুখী কাঠামোগত উন্নয়নের চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ এবং ধ্বংসাত্মক প্রভাব। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দেশের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের প্রধানতম মৌলিক ভিত্তি কৃষিজমি আজ চরম অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। পরিসংখ্যান ও গবেষণার তথ্য বলছে, অপরিকল্পিত মানববসতি সম্প্রসারণ, যত্রতত্র অবকাঠামো নির্মাণ এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৯ হাজার হেক্টর অমূল্য কৃষিজমি চিরতরে কৃষির আওতার বাইরে চলে যাচ্ছে। কৃষিজমি কমার এই বার্ষিক হার প্রায় দশমিক ২৪ শতাংশ, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত। আবাদি জমি কমে যাওয়ার ফলে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যের জোগান দিতে গিয়ে কৃষকদের বাধ্য হয়ে উচ্চফলনশীল জাত এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু জমি যদি না থাকে, তবে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে যে ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না, তা নিয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি কৃষি সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় দেশের কৃষি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি অত্যন্ত তথ্যবহুল উপস্থাপনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ডক্টর মো. আবদুছ ছালাম। তার উপস্থাপনায় দেশের কৃষিজমি কমে যাওয়ার অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি কৃষিজমির সুরক্ষা এবং ভূমি অবক্ষয় রোধ করাকে দেশের কৃষিখাতের প্রধান ছয়টি চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, প্রতি বছর গড়ে ৬৯ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো, আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতাকে নিজেদের হাতেই ধ্বংস করছি। এর আগে গত নভেম্বরে রাজধানীতে বাংলাদেশ এগ্রোইকোলজি প্লাটফর্ম আয়োজিত ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার’ শীর্ষক আরেকটি জাতীয় কর্মশালায় জানানো হয়েছিল যে, প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। ওই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারও উপস্থিত থেকে এই সংকটের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

বিএআরসি চেয়ারম্যানের উপস্থাপনার ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে মোট আবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৮ লাখ হেক্টর। কিন্তু চার দশকেরও বেশি সময় পর ২০২১ সালে এসে সেই জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮৩ দশমিক ৩ লাখ হেক্টরে। অর্থাৎ, এই সুদীর্ঘ সময়ে কৃষিজমি কমার বার্ষিক গড় হার ছিল দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ভূমি ব্যবহার জরিপ ২০১৯-২০ এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে আবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ৮৮ দশমিক ২৯ লাখ হেক্টর। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতিকে আরও বেশি ভয়াবহ হিসেবে দেখছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে কৃষিজমি কমার প্রকৃত বার্ষিক হার দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা স্থানীয় হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি। নগরায়ণ, বসতি স্থাপন এবং নদীভাঙনের কারণে কৃষিজমির এই ধারাবাহিক সংকোচন দেশের সামগ্রিক কৃষিব্যবস্থা এবং অর্থনীতির জন্য একটি অকল্পনীয় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব কেবল ফসল উৎপাদনের পরিধি কমে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জমি যখন বিভিন্ন অবকাঠামো বা বসতবাড়ির কারণে খণ্ডিত বা টুকরো হয়ে যায়, তখন সেখানে আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতির ব্যবহার, সুষম সেচ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জমি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের আয়, জীবিকা এবং বেঁচে থাকার ন্যূনতম অবলম্বনটুকুও হারিয়ে যায়, যার ফলে বাড়ে দারিদ্র্য। এর পাশাপাশি ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত ঝুঁকিগুলোও কৃষিকে প্রতিনিয়ত খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে। চরাঞ্চলের ভয়াবহ নদীভাঙন, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের আশঙ্কাজনক হ্রাস এবং হাওরাঞ্চলে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল বা আকস্মিক বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো কৃষির ওপর প্রতিনিয়ত এক অমানবিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মো. আনোয়ারুল আবেদীন এ বিষয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সতর্কতামূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান যে, জনসংখ্যার প্রবল চাপের কারণেই প্রতিনিয়ত কৃষিজমির এমন নিষ্ঠুর রূপান্তর ঘটছে, যা যেকোনো মূল্যে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ইতিমধ্যে কৃষিজমি রক্ষায় একটি চমৎকার আইন প্রণয়ন করেছে, যার মাধ্যমে কৃষিজমিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা, ইটভাটা, পুকুর খনন বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করা আইনিভাবে সম্ভব। তবে শুধুমাত্র আইন করলেই হবে না, এর কঠোর ও আপসহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বড় বড় সরকারি প্রকল্পগুলো হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের দ্বারা কৃষিজমিতে গড়ে ওঠা ছোট ছোট বাড়িঘর বা অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এজন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কোনো বিকল্প নেই। অধ্যাপক আবেদীন অত্যন্ত সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপুল অবকাঠামো ও সামরিক শক্তি ছিল, কিন্তু তাদের খাদ্য সংকটও ছিল। অর্থাৎ, একটি জাতিকে টিকে থাকতে হলে সবার আগে খাদ্য প্রয়োজন। কৃষিজমি না থাকলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা চরম হুমকিতে পড়বে। তখন মানুষের পকেটে হয়তো প্রচুর টাকা থাকবে, চারপাশে বড় বড় ইমারত থাকবে, কিন্তু খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষি বিশ্লেষকরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ ও ভূমিধসের মতো জলবায়ুজনিত সংকটগুলো খাদ্যনিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত ব্যাহত করছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে দেশে লবণাক্ততায় আক্রান্ত এলাকার পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩৩ লাখ হেক্টর, যা ২০২৪ সালে এসে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টরে। একদিকে আবাদি জমি কমছে, অন্যদিকে আবাদযোগ্য জমিগুলো লবণাক্ত হয়ে ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চলতি মূল্যে দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ মানুষ এখনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং, কৃষিজমির এই সংকোচন কেবল খাদ্য উৎপাদন কমার বিষয় নয়, এটি দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর আয়, কর্মসংস্থান এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তবে এতসব সংকটের মাঝেও সীমিত জমি থেকে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে বলে বিএআরসির উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৮০ সালে দেশে যেখানে মোট চাল উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টন, ২০২৫ সালে তা কয়েক গুণ বেড়ে প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টনে পৌঁছেছে। কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, সুষম সারের ব্যবহার এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলেই এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। তবে দেশের কৃষিখাতে শুধু জমি কমে যাওয়াই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। কৃষকদের সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের তীব্র ঘাটতি, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, কৃষি উপকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ঋণে প্রান্তিক কৃষকদের সীমিত প্রবেশাধিকার এবং কৃষিজন্ত্রপাতির উচ্চমূল্য আজও কৃষিকে একটি লাভজনক পেশায় রূপান্তরের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনায়ও চরম অরাজকতা ও দুর্বলতা বিরাজ করছে। দেশে কার্যকর কোনো কৃষক সমবায় না থাকায় ফসলের দাম নির্ধারণে কৃষকদের কোনো দরকষাকষির ক্ষমতা নেই, ফলে তারা প্রায়শই মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা শোষিত হন।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা এই চতুর্মুখী সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জমি সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ঘাতসহনশীল জাতের আবাদ বাড়ানো, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কৃষি বীমার মতো সুরক্ষা কাঠামোর সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। উচ্চ মূল্যের ফসল আবাদ, সম্পদ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার দিকে কৃষকদের ধাবিত করতে হবে। দেশে কৃষিজমি কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম। তার গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ একর বা ৭৫ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর। এই বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে দেশে জনপ্রতি কৃষিজমির প্রাপ্যতা মাত্র ১১ শতক বা এক বিঘার এক-তৃতীয়াংশ, যেখানে বিশ্বে এই গড় প্রাপ্যতার পরিমাণ প্রায় তিন একর। ১৯৮৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশে কৃষিজমি কমার গড় হার ছিল দশমিক ৫৮ শতাংশ। তার মতে, জনসংখ্যা বাড়লে আবাসন প্রয়োজন হবেই, তবে গ্রামে বাড়ি বানাতে হলে তা সমান্তরালভাবে সম্প্রসারণ না করে বহুতল বা ওপরের দিকে নির্মাণ করার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে কৃষিজমি বেঁচে যায়।

সর্বশেষ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে কৃষিজমিকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার সেই অধ্যাদেশটিকে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ হিসেবে জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে পাস করে। ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, এই আইনটির কঠোর ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল কৃষিজমির কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে কৃষিজমি কমার বর্তমান হার দশমিক ২২ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ১০ বা ১২ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন কিছু নয়। তবে সার্বিক এই ভয়াবহ সংকট ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বর্তমান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। সব মিলিয়ে এটি স্পষ্ট যে, কৃষিজমি রক্ষা করতে না পারলে আগামী দিনে বাংলাদেশকে এক চরম খাদ্য ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে, যা কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়েই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category