• সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন
Headline
সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকা নৌকা থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ১০ জনের মৃত্যু এক সাইট বন্ধ তো আরেক হাজির: ডিজিটাল জুয়ায় দিশেহারা প্রশাসন রূপালী ব্যাংকের ১৯১ কোটি টাকার অনাদায়ি: পাওনা মেটাতে বেক্সিমকোর ২৬ একর জমি নিলামে পাহাড়, সীমান্ত ও সমতল: বহুমুখী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে দেশ সবুজ সনদের আড়ালে ফাঁদ: সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দায় এড়ানোর প্রতিযোগিতা পরিকল্পনাহীন বিদ্যুৎ নীতির মাশুল: দেশীয় গ্যাস হারিয়ে এলএনজির ফাঁদে অর্থনীতি সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা পেশাদারিত্বের ঘাটতি না অজ্ঞতার মাশুল: ফিফার নিষেধাজ্ঞার জালে দেশের ফুটবল সংবিধান সংশোধন সংসদেই সম্ভব, রাজপথে বলে লাভ নেই : গয়েশ্বর

ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকা নৌকা থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ১০ জনের মৃত্যু

Reporter Name / ০ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়া একটি রাবারের নৌকা থেকে ২৯ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। মিশরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূল থেকে উদ্ধারের পর তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৯ বাংলাদেশি ও একজন সুদানি নাগরিকসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাস।
রোববার (১৬ আগস্ট) দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

দূতাবাস জানিয়েছে, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই নৌকায় যাত্রা করেছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি নাগরিকসহ মোট ৪২ জন লিবিয়ার তবরুক থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন।

নৌকাটি স্পিডবোটের ইঞ্জিন দিয়ে চালানো হলেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রীদের বলা হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে।
কিন্তু নৌকাটিতে যথাযথ নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় একপর্যায়ে সেটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। পরে জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে। এভাবে প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে পৌঁছায় নৌকাটি। স্থানীয় পুলিশ তখন যাত্রীদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন ছিলেন। তাদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলে দূতাবাসের কর্মকর্তারা নৌযাত্রার বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাগরে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ, খাদ্য ও পানির সংকটে ৯ বাংলাদেশি ও একজন সুদানি নাগরিক অসুস্থ হয়ে মারা যান।

আব্দুল করিম জানান, দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থান করায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরেছিল। পরিস্থিতির একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন।

ঘটনাটি জানার পর থেকে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের বক্তব্য এবং সরেজমিন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তীতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category