• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline
ইউরোপের রাজপথে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নীতিচাপ: ত্রিমুখী সংকটে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাত নীতি প্রণয়নে নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্যের অপরিহার্যতা মাথাব্যথার আধুনিক চিকিৎসা ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে? ১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার, আহত ১ লাখ ৭৬ হাজার ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক আগামীকাল খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালের পর সৌদি আরবে অন্তত ১৯ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মাথাব্যথার আধুনিক চিকিৎসা

ডা.-আলতাফ হোসেন সরকার / ১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

এমন কোনো পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে
না, যে পরিবারে মাথাব্যথার রোগী নেই।
মাথাব্যথা মেডিকেল কন্ডিশনের একটি
অন্যতম অসুস্থতা। বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর
প্রায় শতকরা ১৮ ভাগ লোক মাথাব্যথায়
ভুগে থাকেন। মাথাব্যথা বিভিন্ন প্রকারের
হতে পারে যেমন: টেনশন হেডেক,
ইনফ্লাম্যাশন হেডেক, ট্রাকশন হেডেক, ভাস্কুলার হেডেক (মাইগ্রেন,
ক্লাস্টার, টক্সিক) ও সার্ভিকোজেনিক হেডেক অন্যতম। এর মধ্যে শতকরা
১৫-২০ ভাগ সার্ভিকোজেনিক হেডেক বা সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথায়
ভোগেন।
বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, মাথাব্যথা সঠিকভাবে গণনা করা হয়নি,
আন্ডার রিকগনাইজড এবং আন্ডার ট্রিডেট ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড। ১৯৮৩ সালে
মি. এসজাস্টেড প্রথম সার্ভিকোজেনিক হেডেক-এর উপর তথ্য প্রদান
করেন। সার্ভিকোজেনিক হেডেক এমনি একটি মাথাব্যথা যার উৎপত্তি ঘাড়
থেকে। এক্ষেত্রে ঘাড়ের মাংসপেশী যেমন: ট্রাপিজিয়াস মাসলের উপরের
অংশ, লিভেটর স্ক্যাপুলি ও অক্সিপিটালিস মাসল খাটো হয় ও ঘাড়ের ফ্ল্যাক্সর
গ্রুপের মাংসপেশী, যেমন: লঙ্গাস ক্যাপিটাস ও লঙ্গাস কোলাই দুর্বল হয়।
মাথার এক্স-রে, সিটিস্ক্যান, এমআরআই-এ সাধারণত কোনো অসুবিধা
পাওয়া যায় না। কারণ, কষ্ট থাকে ঘাড়ের উপরিভাগে।
ঘাড়ের অন্যান্য স্ট্রাকচার যেমন: আপার সার্ভাইক্যাল ফ্যাসেট জয়েন্ট,
আপার সার্ভাইক্যাল মাসল, সি ২-৩ ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক, কেরোটিড
আর্টারি, ডুরামেটার, আপার স্পাইনাল কর্ড, ঘাড়ের পিছনে ক্রেনিয়াল ফোছা
এ ধরনের মাথাব্যথা তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়াও উইফ্লাস ইনজুরি,
ঘাড়ের উপর অতিরিক্ত স্ট্রেস, ভুলভাবে ভঙ্গিতে পড়াশোনা, কম্পিউটার
ব্যবহার, মোবাইল ফোন ব্যবহার, অফিস ওয়ার্ক ও সামনের দিকে ঘাড়
বাঁকা করে দীর্ঘসময় কাজ করা থেকেও সার্ভিকোজেনিক হেডেক হতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে শরীরের ফ্যাট ভেঙ্গে যায় এবং
ফ্যাট থেকে টক্সিন বের হয়। এ টক্সিন আমাদের ঘাড় ও কাঁধের উপরিভাগের মাংসপেশী শক্ত করে। ফলে মাথাব্যথা তৈরি হয়। এছাড়াও
পানি শূন্যতার কারণেও মাথাব্যথা হয়।
সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথার রোগীর ঘাড়ের ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন
করলে তার আপার ক্রস সিনড্রোম পাওয়া যায়। এছাড়াও রোগীর ফরওয়ার্ড
হেড পোশ্চার থাকে ও রোগীর জয়েন্ট মবিলিটি কমে যায়। ঘাড়ের ও কাঁধের
বিভিন্ন মাংসপেশী শক্ত বা টাইট হয়ে যায়। মাথাব্যথার সঙ্গে অনেকের চোখ,
কপাল, কানের পাশে ও থুতনিতে ব্যথা হয়ে থাকে। তরুণ-তরুণী থেকে
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন। মহিলারা পুরুষের চেয়ে চারগুণ
বেশি মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন।
জনাব আলমগীর। বয়স ৫৯ বছর। থাকেন পাবনা জেলার বেড়া পৌরসভা
এলাকায়। গত পাঁচ বছর যাবত মাথার ডানপাশে ব্যথায় ভুগছেন।
মাথাব্যথার পাশাপাশি তার চোখেও ব্যথা হয়। মাঝে মাঝে ভমিটিং এবং
ডিজিনেস হয়। তিনি তার মাথাব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাথার এক্স-রে, সিটিস্ক্যান ও এমআরআই
করেছেন এবং বিভিন্ন প্রকার ল্যাবরেটরি পরীক্ষাও করেছেন। সর্বপ্রকার
রিপোর্ট-এ বলা হয়েছে, কোনো অসুবিধা নেই। চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ
এবং তার উপদেশ অনুযায়ী চোখের বিভিন্ন পরীক্ষা করেছেন। এ রিপোর্ট-এ
বলা হয়েছে তার চোখেও কোনো অসুবিধা নেই।
জনাব আলমগীর এখন খুবই হতাশ জীবনযাপন করছেন। মাথাব্যথার
যন্ত্রণায় অনেক কষ্ট পাচ্ছেন কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বলা হয়েছে কোনো
অসুস্থতা নেই।
জনাব আলমগীরের ঘাড় পরীক্ষা করে দেখলাম নেকের উপরিভাগের
ডানপাশে ব্যথা এবং টেন্ডার। পাশ থেকে দেখা যায় এবং আমাদের
মেজারমেন্ট টুলস দ্বারা পরীক্ষা করে দেখলাম যে, তার ইন্টেরিওর হেড
পোশ্চার আছে। তার অক্সিপিটো-নিউকিয়াল রিজিওনে লোকালাইজড
পেইন আছে। মাথা ডান-বামে ঘোরাতে এবং পিছনদিকে বাঁকা করতে কষ্ট
হয় অর্থাৎ মুভমেন্ট কমে গেছে। এসমস্ত উপসর্গ দিকনির্দেশনা দেয় জনাব
আলমগীর
সার্ভিকোজেনিক
হেডেকে
ভুগছেন।
মনে রাখবেন,
সার্ভিকোজেনিক হেডেকের ক্ষেত্রে মাথার এক্স-রে, সিটিস্ক্যান ও
এমআরআইতে কোনো অসুবিধা থাকবে না।

জনাব আলমগীরের জন্য মাথাব্যথার অত্যাধুনিক চিকিৎসা করতে হবে।
যেমন: চিন টাক এক্সারসাইজ, ৬টি পয়েন্টে ডিপফ্রিকশন, ঘাড়ের সফট
টিস্যু মোবালাইজেশন, স্ট্রেসিং, স্ট্রেন্দেনিং, মায়োফেসিয়াল রিলিজ ও
পোশ্চারাল কারেকশন করতে হবে। তারপর তার মাসল কন্ট্রোল
এক্সারসাইজ, মাসেলের এন্ডিওরেন্স এক্সারসাইজ করতে হবে। পাশাপাশি
লো-লেভেল লেজার থেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, হট বা কোল্ড থেরাপি
(অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী) ব্যবহার করতে হবে।
খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে, যেমন: আদার রস খালি পেটে
দিনপ্রতি ১ চা-চামচ (যদি ডায়াবেটিস এবং হাইপার টেনশন বা ব্লাড প্রেসার
বেশি না থাকে), আনারসের মাঝের অংশ, কালো আঙুর/জাম, পাকা
পেঁপে, পাকা কলা, বাঁধাকপি, গাজর, টমেটো খাদ্য তালিকায় যোগ করুন।
প্রচুর পানি পান করুন। ব্যথা থাকলে—লবণ, সাদা খাবার (যেমন— সাদা
আটা, চাল, ব্রেড ইত্যাদি), লাল এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস (গরু, খাসির
মাংস), দুধের তৈরি খাবার ও চিনি পরিহার করুন। ধূমপান বর্জন করুন।
মাথাব্যথার কষ্ট থেকে মুক্ত থাকুন।
আমার ৪৬ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আমার কাছে যারা এ ধরনের
মাথাব্যথার কষ্ট নিয়ে আসেন তাদের মধ্যে অনেকেই ৫-১০ বছর এমনকি
২০ বছর ধরে এই কষ্টে ভুগে থাকেন। তার কারণ ব্যথার উৎপত্তি ঘাড়
থেকে, সুতরাং চিকিৎসা ঘাড়ের যে স্ট্রাকচার মাথাব্যথা তৈরি করছে সে
স্ট্রাকচারে করতে হবে। তবে আমার এ অত্যাধুনিক মাথাব্যথার চিকিৎসায়,
দীর্ঘ ৪৬ বছরের প্র্যাকটিসে দেখেছি অধিক সময়ের কিংবা ১০-২০
বছরের মাথা ব্যথার অধিকাংশ রোগীই বলে থাকেন তারা ২-৩ সপ্তাহের
মধ্যে কষ্টমুক্ত হয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category