যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানে মার্কিন হামলার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় ইরানে ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনের’ অভিযোগ তুলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ-রেজা জাফরঘান্দি হতাহতের এ তথ্য জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ‘চূড়ান্তভাবে’ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তেহরান।
ইরানের দাবি, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে। এসব হামলায় বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ও সেবা খাতের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি
ইরানের হামলার অভিযোগের পর বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, তাদের বাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক হামলার প্রচেষ্টার জবাবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সম্পদ এবং সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ছিল হামলার লক্ষ্য।
মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা হামলা
মার্কিন হামলার পর ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ইরানের আইআরজিসির দাবি, জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, আলজাজিরা