• শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৪২ অপরাহ্ন

শীর্ষ ৬ পদে নেতৃত্ব চূড়ান্ত নতুন দলের

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

তরুণদের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ শুক্রবার। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে সারা দেশ থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকরা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকা বিএনপি-জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকে।

নতুন দলের শীর্ষ ৬ পদে নেতৃত্ব চূড়ান্ত হয়েছে। আহ্বায়ক করা হয়েছে নাহিদ ইসলামকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে আখতার হোসেনকে। মুখপাত্র হিসাবে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আলোচনায় আছেন। মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পাচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকতে পারেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এছাড়াও যুগ্ম সদস্য সচিব পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন দায়িত্ব পেতে পারেন। যদিও দল গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিটিতে কারা কোথায় থাকবেন-সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে নিজেদের ভেতরে আলোচনা চলছে।

নতুন দল গঠন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে আলোচনায় ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা আলী আহসান জোনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত। এর মধ্যে আলী আহসান জোনায়েদকে নতুন দলের সদস্য সচিব করার দাবি তোলেন সংগঠনের ভেতরে থাকা তার কর্মী-সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে তাকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করার সিদ্ধান্ত নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তই বহাল ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জোনায়েদ ও রাফে।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বিএনপিসহ ৮টি রাজনৈতিক দলের ২২ জন নেতা দেশটি সফরে আছেন। ওই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ ও যুগ্ম সদস্য সচিব রাফে সালমান রিফাত। তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় জাতীয় নাগরিক কমিটিতে। সংগঠন থেকে বলা হয়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি। ফলে কেউ সফরে অংশগ্রহণ করছেন না। এরপর থেকে নতুন দলে আলী আহসান জোনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাতের জায়গা পাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। এমন অবস্থার মধ্যেই তারা দুজন মঙ্গলবার মধ্য রাতে নতুন দলে না থাকার সিদ্ধান্ত ফেসবুকের মাধ্যমে জানান। এদিকে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শক্তিকে একত্রিত করতে কাজ করছেন তারা। তবে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে থাকা দলগুলোকে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। এছাড়াও সরকারের সাবেক আমলা, বিভিন্ন বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, সরকারের উপদেষ্টাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

নতুন কমিটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নেতৃত্ব দেবে বলে জানা গেছে। এজন্য দলের আহ্বায়ক কমিটির আকার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কমিটির একটা খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সম্মুখযোদ্ধাদের স্থান দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের আলোচিত নারী নেত্রীরা নতুন দলে জায়গা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দলের নাম কি হবে সে বিষয়ে মুখ খুলছেন না জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা বলছেন, নতুন দলের নাম এখনো ঠিক হয়নি। তবে দেশের মানুষের চাহিদা ও তাদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন দলের নাম নির্ধারণ করা হবে। নামের সঙ্গে নাগরিক শব্দটি থাকতে পারে। ‘জনতা’ কিংবা ‘বিপ্লবী’ শব্দটিও রাখার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতীক হিসাবে মুষ্টিবদ্ধ হাত, কলম, শাপলা ফুল-প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category