নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা ও নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে, যা দেশের নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রবিবার বিকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মৎস্যবন্দর মহিপুর বিএফডিসি মার্কেটে নৌযান শুমারি উপলক্ষে জেলেদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন হলে স্থানীয় নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জেলেরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। শুমারির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে সরকারি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।
তিনি বলেন, নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি হলে মেরিটাইম সেক্টরে হয়রানি কমবে এবং মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যাও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করে নৌপথে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জেলেদের সরকারি সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার ওপর সরকারি বিধিনিষেধ চলাকালে শুমারির তালিকায় নাম থাকলে জেলেরা সহজেই সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ট্রলারের মালিকানা দাবি, ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এ তথ্য কাজে আসবে।
নিজের নামে নৌযান নিবন্ধনের সুযোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুমারির তথ্য ব্যবহার করে মালিকরা সহজেই নিজেদের নৌযান নিজ নামে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধন ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হয়রানিমুক্ত, সহজ ও কম খরচে নৌযানের মালিকানা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নৌযান মালিক ও জেলেদের সহযোগিতা করবেন।
জেলেদের সুবিধার্থে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ড্রেজিং এবং একটি লাইটহাউস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি অবৈধ ট্রলিং জাহাজের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর শফিউল বারী, পায়রা বন্দরের সদস্য কমডোর তারেকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী খাপড়াভাঙ্গা নদী পরিদর্শন করেন এবং জেলেদের বিভিন্ন মাছ ধরার ট্রলার ঘুরে দেখেন।