• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনার বিচার ও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অবস্থান জানাল যুক্তরাষ্ট্র

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ফাঁসির দণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার বিষয়ে কোনো অবস্থান নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনার বিচার নিয়েও ওয়াশিংটনের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নিতে চায় না। ওয়াশিংটন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এবং বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।

শেখ হাসিনার বিচার ও দেশে ফেরার প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের কারণ হয়ে আছে। ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করে। শেখ হাসিনাকে নিয়ে কী করা উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি বলেও জানান তিনি। পরে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও ভালো সম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে উৎসাহ দেয়।

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে-এমন প্রসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “ওয়াশিংটন বাংলাদেশকে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করতে চায় না।তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর খাতে বাংলাদেশকে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব ব্যবস্থাগুলো সুরক্ষায় সহায়তা করতে এবং বিকল্প ব্যবস্থা দিতে চায়। ”

তিনি বলেন, “আমরা বলছি না যে আপনাকে এটি বা সেটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। আমরা বরং এসব দেশের জন্য বিকল্প দিতে চাই, বিশেষ করে তাদের স্পর্শকাতর খাতগুলোতে। ”

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক গতিপথে : বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিবাচক গতিপথে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। বাণিজ্যিক সহযোগিতা, বিমান খাত এবং বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হিসাবে তুলে ধরেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ”

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে এ মন্তব্য করেন।

মরিসন বলেন, “বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমরা একটি ভালো অবস্থানে রয়েছি। ” তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। এটিকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মরিসন বোয়িংসংক্রান্ত একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টও বৃহস্পতিবার সকালে তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান মরিসন। তিনি বলেন, “শুক্রবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে এই এমওইউ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতার এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে। এর মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন কাঠামো তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ”

মরিসন বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও চুক্তিগুলোকে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিস্তৃত অগ্রগতির অংশ হিসাবে তুলে ধরেন। দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ অঞ্চলকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগামী দিনগুলোতে আরও অগ্রগতি হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা অংশ নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category