• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
Headline
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, এবার রামিসা হত্যা মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে পালা সারাদেশে মৃদু তাপপ্রবাহ, কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এক নতুন মাইলফলকে: স্পিকার এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমলো বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নরওয়ের জোরালো ভূমিকা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়াতে ঢাকা ও বার্নের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ ২৩ ঘরোয়া ও ৪৭ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়ে বাফুফের মেগা বর্ষপঞ্জি প্রকাশ পরীক্ষায় ভালো করার সিক্রেট: একজন সেরা ছাত্রের পরামর্শ গোহত্যা করলে মুসলিমদের চরম পরিণতি ভোগ করার হুমকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, এবার রামিসা হত্যা মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে পালা

Reporter Name / ৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দেশ কাঁপানো মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন সর্বশেষ ধাপে উপনীত হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ শুনানি, নিবিড় জেরা, ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত আলামত উপস্থাপনের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। আদালত ৩ জুন বুধবার মামলার আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ varia বা ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন এবং সাফাই বক্তব্য পেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আলোড়িত এই মামলার চূড়ান্ত শুনানির দিনটিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আদালত পাড়ায় নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অপর সহযোগী আসামি স্বপ্না আক্তারকে কড়া পুলিশি পাহারায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানির পূর্বে তাদের আদালতের সুরক্ষিত হাজতখানায় রাখা হয় এবং পরবর্তীতে কঠোর গোপনীয়তা ও সুরক্ষায় বিচারকের এজলাসে তোলা হয়।

আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই লোমহর্ষক হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সর্বমোট ১৭ জন সাক্ষী ছিলেন, যার মধ্যে ১৬ জনই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে তাঁদের মূল্যবান জবানবন্দি প্রদান করেন। দিনভর চলা এই ম্যারাথন শুনানিতে বিকেল পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্য ও জেরা পুরোপুরি রেকর্ড করা সম্ভব হয়। মামলার প্রধান সাক্ষী তথা নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সরাসরি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালত চত্বরে আসেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, ঘটনার দিন স্ত্রীর ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি করে বাসায় ফিরে দেখেন প্রতিবেশীদের ভিড়। একপর্যায়ে তিনি হাতুড়ি দিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই টয়লেটের সামনে রক্তের দাগ দেখতে পান। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি প্রচণ্ড আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে গণমাধ্যমের কাছে তাঁর একমাত্র কন্যাসন্তানের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

মামলার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী নিহত রামিসার মা পারভীন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে আদালতকে জানান, ঘটনার সময় নিজের ঘরে রান্না করার সময় তিনি একটি শিশুর আকুল চিৎকার শুনেছিলেন, যা পাশের বাসার কোনো বাচ্চার সাধারণ কান্না ভেবে তিনি প্রথমে এড়িয়ে যান। পরে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সর্বত্র সন্ধান শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার একটি জুতো পড়ে থাকতে দেখে তাঁর মনে তীব্র সন্দেহের উদ্রেক হয়। তিনি বারবার দরজা খোলার জন্য স্বপ্না আক্তারকে ‘বোন’ সম্বোধন করে ডাকলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পরে দরজা ভাঙা হলে রক্ত ও রামিসার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, নিহত শিশুর বড় বোন রাইসা আক্তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মানসিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালত উন্মুক্ত এজলাসের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ‘ক্যামেরা ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে গোপনে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

দিনের শেষভাগে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত রক্তমাখা আলামত ও কেটে ফেলা জানালার গ্রিলসহ বিভিন্ন বস্তুগত তথ্যপ্রমাণ আদালতের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। আলামত সনাক্তকরণের সময় ঘটনার নৃশংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কর্তব্যরত একজন police কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের জানান, গণসাক্ষী ও বিশেষজ্ঞদের দেওয়া জবানবন্দিতে দুই আসামির প্রত্যক্ষ অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরার মাধ্যমে মূল ঘটনার সত্যতা বিন্দুমাত্র খণ্ডন করতে পারেননি।

এর আগে, প্রধান আসামি সোহেল রানা প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় গণমাধ্যমের সামনে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি তোলা হয়। ফলশ্রুতিতে, আদালত আসামিদের কড়া নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আসামিদের আদালত থেকে বের করার সময় পুলিশ সদস্যরা চারপাশ ঘিরে রেখে মুহুর্মুহু বাঁশি বাজিয়ে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেন যাতে আসামিরা সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলতে না পারে। প্রধান আসামির মুখে এ সময় জোরপূর্বক মাস্ক পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের প্রচণ্ড ভিড় থাকায় আদালত প্রশাসনের উদ্যোগে বাইরে বিশেষ লাউডস্পিকারের ব্যবস্থা করা হয়, যার মাধ্যমে এজলাসের ভেতরের সমস্ত আইনি প্রশ্নোত্তর ও জবানবন্দি বাইরে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা সরাসরি শুনতে ও তাৎক্ষণিক সংবাদ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

স্মর্তব্য যে, গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে স্বপ্না আক্তার এবং পরবর্তীতে ফতুল্লা থেকে প্রধান খুনি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। গত ২৪ মে ডিএনএ প্রোফাইলিং ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। যেখানে সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকার ও রাষ্ট্রপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবীদের উপস্থিতিতে চলমান এই মামলাটি এখন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কের প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ে রায়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category