সৌদি আরবের মক্কা নগরীর একটি মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশকে বা জেদ্দায় বাংলাদেশের মিশনকে আগে জানানো হয়নি।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ সরকার।
জানা গেছে, এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেট। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে এলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানায়। দণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল।
এ সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।
কনসুলার সম্পর্ক বিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো দেশের নাগরিক গ্রেপ্তার হলে বন্দির অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তাঁর দেশের কনসুলেটকে জানাতে এবং কনসুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয়ই এ সনদের পক্ষভুক্ত। তবে দুই বাংলাদেশি তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি কনসুলেটকে জানাতে অনুরোধ করেছিলেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়।
তাঁদের পক্ষে কেউ বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কেন তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।