লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু এই পথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবার নিজেদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌ কমান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে হলে এখন থেকে তাদের আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
আইআরজিসি’র কঠোর শর্তাবলি
বাণিজ্যিক জাহাজগুলো প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিয়মাবলি মেনে চলবে, তা বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আইআরজিসি। প্রথমত, প্রণালিতে প্রবেশের আগে আইআরজিসির নৌ কমান্ডের সরাসরি অনুমতি নিতে হবে; তাদের সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো জাহাজই সামনে এগোতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, অনুমতি পাওয়ার পরও জাহাজগুলো খেয়ালখুশিমতো চলতে পারবে না, কেবল সামরিক বাহিনীর নির্ধারণ করে দেওয়া রুট বা পথ ধরেই তাদের যাতায়াত করতে হবে। এছাড়া, বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও যেকোনো বিদেশি সামরিক জাহাজের ক্ষেত্রে আগের কঠোর নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, লেবাননে কার্যকর হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পর এবং চলমান চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের ঘোষণা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এর আগে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে হরমুজ প্রণালিকে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ এই নৌপথ দিয়ে অবাধে যাতায়াত করতে পারবে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই ‘অবাধ’ চলাচলের ঘোষণার পরপরই আইআরজিসির এই নতুন ও কঠোর শর্তারোপ প্রমাণ করে যে, কৌশলগত এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ কার্যত তাদের হাতেই থাকছে।