বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর চলমান ‘লাইভ’ সামরিক মহড়ার কারণে নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবে সাময়িকভাবে এই প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মহড়া শেষ হলে প্রণালীটি পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে মহড়া ঠিক কবে শেষ হবে বা কতদিন এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
আইআরজিসি’র কমান্ডার ও মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা তাঙ্গসিরি জানিয়েছেন যে, মহড়া চলাকালে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে এবং এটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট।
জ্বালানি সরবরাহ: বিশ্বে প্রতিদিন পরিবাহিত মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।
বাজার প্রতিক্রিয়া: বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই রুটটি সাময়িক বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক তেল বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি এবং সমুদ্র বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ভৌগোলিক গুরুত্ব: বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানি রুট হওয়ায় এই প্রণালী বন্ধের সংবাদে ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের চলমান উত্তজনার মধ্যেই এই সামরিক মহড়া ও পথ বন্ধের ঘোষণা এলো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের এই সময়ে ইরানের এমন পদক্ষেপকে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।