• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্য ঠিক নয়, বেশিরভাগ বাঙালি: মিয়ানমার

Reporter Name / ৪২ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের তথ্যকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই প্রসঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছে দেশটি।

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি এবং সাগরপথে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়া, পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসকারীদের বিভিন্ন বিবরণ উপস্থাপন করেছে। লক্ষ্য করা গেছে, এই প্রতিবেদন, প্রকাশনা ও সম্প্রচারগুলো একতরফা এবং ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। তাই রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রকৃত হিসাব নিম্নরূপ পরিষ্কার করতে চায় মিয়ানমার।

দেশটি দাবি করেছে, উত্তর রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের বিষয়ে বাস্তবতা ছিল যে, ২০১৬ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের আগস্ট, আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী উত্তর রাখাইন রাজ্যের পুলিশ ফাঁড়ি এবং ব্যাটালিয়নে একযোগে এবং সমন্বিত হামলা চালায়। এ ছাড়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি সরকারি কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজনকে হত্যা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়ায়, তাতমাদাওকে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছিল। আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হুমকি ও আক্রমণের ফলে স্থানীয় লোকজন অন্য শহর ও গ্রামে পালিয়ে যায় এবং বিপুল সংখ্যক ‘বাঙালি’ বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তাদের দাবি, রেকর্ড অনুসারে, আরসা সন্ত্রাসী হামলার আগে রাখাইন রাজ্যের বুথিডং, মুংডো এবং রাথেডং টাউনশিপে ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি ‘বাঙালি’ বসবাস করতো। এই ঘটনার পর দুই লাখেরও বেশি ‘বাঙালি’ এই অঞ্চলে রয়ে যায় এবং ৫ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি বাঙালি বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। এসব পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রাখাইন রাজ্য থেকে যে ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়।

মিয়ানমার বলছে, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে তিনটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন করে। এই চুক্তি অনুসারে, মিয়ানমার তিনটি অনুষ্ঠানে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছিল, তবে বাস্তুচ্যুতদের কেউই মিয়ানমারে ফেরেননি।

বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির তালিকার মধ্যে, মিয়ানমার ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন ব্যক্তি রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা বলে প্রমাণিত হয়েছে। যেখানে ৪ হাজার ২৪১ জন ব্যক্তি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা যায়নি।

উল্লিখিত পরিসংখ্যানের আলোকে বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত সব লোক মিয়ানমার থেকে এসেছে এমন অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। দেশটি স্পষ্টভাবে এই অভিব্যক্তি ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে যে, ‘নৌকার মানুষ’ এবং অন্য ব্যক্তিরা যারা অন্য দেশ থেকে এসেছেন, তারা একটি জাতিগত পরিচয় দাবি করে যা মিয়ানমারে কখনও বিদ্যমান ছিল না।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ১৯৭৮, ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে পরিচালিত অভিযানের কারণে রাখাইন রাজ্য থেকে কিছু বাঙালি বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, মিয়ানমার সফলভাবে ১৯৭৮ এবং ১৯৭৯ সালের মধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৮ এবং ১৯৯২ এবং ২০০৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিকে গ্রহণ করেছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার আন্তরিক সদিচ্ছা নিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। পাইলট প্রজেক্টের আওতায় তাদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির জন্য মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে একটি আসুন ও দেখুন। ভালো প্রতিবেশীসুলভ মনোভাব নিয়ে মিয়ানমার যাচাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন দুই দেশের মধ্যে সমাধানের বিষয়। তাই বিষয়টিকে একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে ভুল চিত্রিত করায় মিয়ানমার এতে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করছে। বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে এ রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category