ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে রাজধানীর প্রধান সাতটি সরকারি কলেজ সংযুক্ত থাকবে।
পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির একটি নিজস্ব মূল ক্যাম্পাস থাকবে। সেখানেও অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স পরিচালিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংযুক্ত কলেজগুলোর প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে থাকবেন ‘অধ্যক্ষ’। তবে একাডেমিক ডিপার্টমেন্টগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন ‘উচ্চ শিক্ষা কো-অর্ডিনেটর’। এছাড়া স্কুলভিত্তিক (অনুষদের বিকল্প) পাঠদান পদ্ধতি চালু হবে, যেখানে ডিনের পরিবর্তে থাকবেন ‘হেড অব স্কুল’।
শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এবং ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রমের ভিত্তিতে মূল ক্যাম্পাস বা সাতটি কলেজের পছন্দ অনুযায়ী স্কুলে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। স্নাতক কোর্সে ভর্তির জন্য সরকার স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯২ সালে এই সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। পরে সেশনজট ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলেও সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং সেশনজটমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতেই এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি সংযুক্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও বিধিবিধান মেনে চলবে। কলেজগুলোর বেতন ও ফিস বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী হবে। এ ছাড়া প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি কলেজকে তাদের একাডেমিক ও আর্থিক প্রতিবেদেন উপাচার্যের কাছে জমা দিতে হবে।
বিলটি পাসের মাধ্যমে রাজধানীর সাত কলেজের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো এবং তাদের উচ্চশিক্ষার নতুন পথ উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।