বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন নাকি অফলাইন পদ্ধতিতে চলবে—তা নিয়ে চলমান ধোঁয়াশা কাটতে যাচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগামী ৯ এপ্রিল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের (স্টেকহোল্ডার) মতামত নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমরা গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন স্তরের অংশীজনদের সাথে আলোচনা করছি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সবার চূড়ান্ত মতামত একত্রিত করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভা বৈঠকে সেই প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এখন বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে তাদের শিক্ষা ও অফিস ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনছে। বাংলাদেশও সেই বৈশ্বিক পরিস্থিতির বাইরে নয়। তিনি বলেন, “জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি আমাদের জন্য এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আজ আমরা ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিএনসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। সবার সহযোগিতা নিয়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে চাই যা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি না করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখবে।”
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে এবং তিন দিন অনলাইন ক্লাসের একটি ‘হাইব্রিড’ মডেল নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। তবে প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংকগুলোর সময়সূচি ইতোমধ্যে এক ঘণ্টা করে কমিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন বা অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা দ্রুত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে। অভিভাবকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—উভয় দিক বিবেচনা করেই সরকার সঠিক সিদ্ধান্তটি নেবে।”
আজকের ব্রিফিংয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ৯ এপ্রিলের সিদ্ধান্তের দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারা দেশের কোটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।