ইসরাইলের ভেতরে ইরানের কথিত গুপ্তচরবৃত্তি ও নাগরিক নিয়োগের তৎপরতা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবার প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মগুরু (রাব্বি) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখদের প্রচারণায় যুক্ত করা হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইরানি এজেন্টরা ইসরাইলি নাগরিকদের বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে তথ্য সংগ্রহ বা সংবেদনশীল কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করছে ইসরাইল।
ইসরাইলের প্রধান রাব্বিনিকাল কাউন্সিলের সদস্য রাব্বি ইগ্যাল কোহেন এক ভিডিও বার্তায় অনুসারীদের সতর্ক করে বলেন, “ইরানি এজেন্টরা ছবি তোলা, অস্ত্র গোপন রাখা কিংবা হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধমূলক কাজে মানুষকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে।”
তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এমন কর্মকাণ্ড ধর্মীয় ও আইনগত—উভয় দিক থেকেই গুরুতর অপরাধ।”
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুরোধে তিনি এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন হারিদি সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার ইসরাইল কোহেন। সম্প্রতি হারিদি সম্প্রদায়ের আরেক সাংবাদিক উইদ্দিশ ভাষাতেও একই ধরনের সতর্কবার্তা প্রচার করেছেন।
ইসরাইলি পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬০টির বেশি মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সেনাসদস্য, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি এবং আরব নাগরিকও রয়েছেন।
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আমিচাই প্যানেট্টা দাবি করেন, অভিযুক্তদের অনেকেই চলমান সংঘাতের সময় শত্রুপক্ষকে সহায়তা করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর ইসরাইলের প্রথম হামলার পর থেকে এ ধরনের তৎপরতা বেড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেলিগ্রাম ও ভুয়া পরিচয়ে পাঠানো এসএমএসের মাধ্যমে প্রথমে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। পরে ধাপে ধাপে সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।
সাবেক শিন বেত কর্মকর্তা শালোম বেন হানান বলেন, তার পরিবারের সদস্যরাও নিয়মিত এ ধরনের বার্তা পান। তার মতে, হাজারো প্রচেষ্টার মধ্যে অল্প কয়েকটি সফল হলেও সেটি গোয়েন্দা তৎপরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি তোলার অভিযোগে এক মার্কিন শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তার, ইরানি এজেন্টকে ভিডিও পাঠানোর দায়ে এক ইসরাইলি সেনার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, আয়রন ডোম ও বিমানবাহিনীর তথ্য পাচারের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক নেতা হত্যার ষড়যন্ত্রে এক তরুণের গ্রেপ্তার।
এ ছাড়া হারিদি শিক্ষার্থী মেইর নাহুম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ভুয়া গোয়েন্দা নথি তৈরি এবং ডিজিটাল মুদ্রার বিনিময়ে তা ইরানি এজেন্টের কাছে সরবরাহের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। যদিও তাদের আইনজীবীর দাবি, তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইরানকে বিভ্রান্ত করেছেন, ইসরাইলের কোনো ক্ষতি করেননি। তবে পুলিশের মতে, এমন কর্মকাণ্ড বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।