• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন

খুলনায় নামাজ চলাকালে মসজিদে হামলা, গুলিতে ২ মুসল্লি গুরুতর আহত

Reporter Name / ২ Time View
Update : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

খুলনার দৌলতপুরে পবিত্র ফজরের নামাজ চলাকালীন সময়ে একটি মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর আকস্মিক ও বর্বরোচিত গুলি বর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে নামাজে থাকা দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা মহানগরের পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদের ভেতরে এই রোমহর্ষক হামলার ঘটনা ঘটে।

এই সশস্র হামলায় গুলিবিদ্ধ দুই মুসল্লি হলেন—উক্ত মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং সাধারণ মুসল্লি আলম মন্ডল (৫৫)। আহত লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বার শেখের ছেলে এবং আলম মন্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লিদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ ভোরেও সাধারণ মুসল্লিরা মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। জামাত চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করে কয়েকজন সশস্র দুর্বৃত্ত অতর্কিতে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে সরাসরি পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছোঁড়ে।

ঠিক ওই মুহূর্তে লোকমান হাকিমের পাশে নামাজে থাকা অন্য মুসল্লি আলম মন্ডলও ছিটকে আসা বুলেটের আঘাতে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই মসজিদে থাকা অন্যান্য মুসল্লিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি তৈরি হয়। এই সুযোগে সশস্র বন্দুকধারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে রক্তাপ্লুত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে। ঘাতকদের ছোঁড়া গুলি লোকমান হাকিমের মাথায় সরাসরি আঘাত করায় তাঁর মগজ ও মাথার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ও আশঙ্কাজনক হওয়ায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে আজ সকালেই তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ অপর মুসল্লি আলম মন্ডলের মাথা, গলার বাম পাশ এবং ডান হাতের বাহুতে একাধিক গুলি লেগেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে নামাজরত অবস্থায় এমন দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মসজিদ ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ঘটনার বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মসজিদে হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ক্রাইম সিনের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঠিক কী কারণে বা কোনো পূর্ব শত্রুতার জেরে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা উদ্ঘাটন করতে পুলিশ ও গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান চলছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category