• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

সংসদের অভিভাবক হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

সংসদ প্রতিবেদক / ৯৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নতুন অভিভাবক পেল দেশ। স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

অধিবেশনের শুরুতে জানানো হয়, স্পিকার পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তা সমর্থন করেন রকিবুল ইসলাম। অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় কণ্ঠভোটে তিনি নির্বাচিত হন।

একইভাবে ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার এবং সমর্থন করেন হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দীন নিজান। তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

মন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতি

সংবিধানের ১৪৭(৩) ও ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের পদটি একটি উচ্চতর সাংবিধানিক পদ। এই পদে আসীন থাকাকালীন কেউ নির্বাহী বিভাগের কোনো দায়িত্ব বা ‘লাভজনক পদে’ থাকতে পারেন না।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, আজ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথেই তাদের মন্ত্রী পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে। তবে তারা নিজ নিজ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে বহাল থাকবেন।


স্পিকারের ক্ষমতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব: একনজরে

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের পদটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

  • নির্বাচন প্রক্রিয়া: সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।

  • কাস্টিং ভোট: সাধারণ সময়ে স্পিকার ভোট দেন না। তবে সংসদে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের ভোট সমান (Tie) হয়ে গেলে, তিনি ‘নির্ণায়ক ভোট’ বা কাস্টিং ভোট দিয়ে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করেন।

  • পদের ধারাবাহিকতা: সংসদ ভেঙে গেলেও স্পিকারের পদ শূন্য হয় না। নতুন স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন।

  • নিরপেক্ষতা: স্পিকার সংসদের ভেতরে কোনো দলের সদস্য হিসেবে নয়, বরং আইনসভার নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।


বর্ণাঢ্য জীবনের হাফিজ উদ্দিন আহমদ

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য ‘বীর বিক্রম’ উপাধি পান। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং তিনবারের দ্রুততম মানব ছিলেন। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পেশায় একজন আইনজীবী এবং তরুণ রাজনীতিক হিসেবে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category