পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তে দেশের ছয়টি ভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত ৯ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকা, রাজবাড়ী, শেরপুর, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল এবং লালমনিরহাটে এসব মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উৎসবের মৌসুমে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের এমন বেপরোয়া চলাচল ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় মঙ্গলবার সকালে ঈদের ছুটিতে সপরিবারে বাড়ি ফেরার পথে মির্জারকোট মডেল মসজিদ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এনজিওকর্মী শরিফুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও শিশুপুত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁদের মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে শেরপুরের নকলায়। ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের কুর্শা বাইপাস মোড় এলাকায় গতকাল দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা নাজিফ নামের ১২ বছরের এক শিশু নিহত হয়। সে এক পুলিশ কনস্টেবলের ছেলে। এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
অন্যদিকে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় গত রোববার সন্ধ্যায় জ্বালানি তেল নেওয়ার সময় সপ্তবর্ণা ফিলিং স্টেশনে একটি ট্রাকের চাপায় অন্য একটি ট্রাকের চালক সোবাহান পাটোয়ারী ও তাঁর সহকারী স্বপন মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। এছাড়া রাজধানী ঢাকার উত্তরার আজমপুর এলাকায় গতকাল সকালে দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় পরশ মিয়া নামের ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ পথচারী নিহত হয়েছেন। নিহত পরশ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং উত্তরায় বসবাস করতেন।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বরিশালের মুলাদী-মীরগঞ্জ সড়কের চর লক্ষ্মীপুর বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় গতকাল সকালে ট্রাক ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে আমিনুল সিকদার নামের এক কৃষক নিহত এবং অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি বাবাকে নিয়ে একটি কাজে বরিশাল শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এছাড়া লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের জোড়পুল এলাকায় গতকাল দুপুরে অটোরিকশার চাপায় মোহাম্মদ উল্লাহ নামের ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।