• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
‘ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না’: প্রধানমন্ত্রী ফুটবল মাঠের পরিচিত মুখ থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী: গুলিতেই শেষ হলো মাফিয়া টিটনের অধ্যায় কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে মা ও শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু মার্কিন অবরোধে তেলের ব্যারেল ১২০ ডলারে আবারও গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলের হামলা পরমাণু চুক্তি ছাড়া নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ‘না’, ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিনের প্রস্তাব, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের শর্ত ট্রাম্পের ধাপে ধাপে আসছে নবম পে-স্কেল: প্রথম ধাপেই বাড়ছে মূল বেতন বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে ৭ জনের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ ৪ মে দেশে আসছে

দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি: গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা

Reporter Name / ৫৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

নদী, খাল ও জলাভূমির দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন এবং পানি ব্যবস্থাপনাকে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশব্যাপী এক বিশাল খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা ও খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে এই মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে দেশের আরও ৫৩টি জেলায় এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই প্রথম ধাপে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার জলপথ খননের কাজ সম্পন্ন করা হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সময়ের পরিক্রমায় অব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশের অসংখ্য খাল ও জলাশয় নাব্যতা হারিয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি ও গ্রামীণ জীবনযাত্রায়। বর্তমানে কৃষিখাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গভীর ও অগভীর নলকূপের সাহায্যে সেচকাজ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, আবার বর্ষাকালে পানিনিষ্কাশনের অভাবে কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে। এই বহুমুখী সংকটের কার্যকর সমাধান হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে দেখা হচ্ছে। খালগুলো সচল হলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হয়ে বন্যার ভয়াবহতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেই সংরক্ষিত পানি সেচকাজে ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত সুরক্ষায় এই কর্মসূচির সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় পর্যায়ে বিপুল শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে মাছ ও হাঁস চাষের মতো ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। এছাড়া বিগত কয়েক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রাকৃতিক জলাধারগুলো পুনরুজ্জীবিত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও খরা মোকাবিলায় একটি অত্যন্ত কার্যকর অভিযোজন কৌশল হিসেবে কাজ করবে।

ঐতিহাসিকভাবেও বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচির অভাবনীয় সাফল্যের নজির রয়েছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে সারা দেশে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খননের যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা দেশে একটি কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিল। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল কর্মযজ্ঞের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে খনন পরবর্তী নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধের ওপর। স্থানীয় সরকার, উপজেলা প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমন্বিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এই কর্মসূচি বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি টেকসই ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category