ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের এই নমনীয় অবস্থানের খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দামে কিছুটা লাগাম পড়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা থাকলেও ট্রাম্পের এই ঘোষণা সাময়িকভাবে বাজারের অস্থিরতা কমিয়ে এনেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত আড়াইটা নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ তেলের দাম ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৩.০৭ ডলারে। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬.১২ ডলারে। যদিও বৃহস্পতিবার তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল, শুক্রবারের এই পতন সেই বিশাল উল্লম্ফনকে পুরোপুরি পুষিয়ে দিতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। তবে আপাতত মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।