• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন
Headline
মাঠে অরক্ষিত কৃষক: বজ্রপাত রোধের কোটি টাকার প্রকল্পগুলো গেল কোথায়? বাবার হাজার কোটি টাকায় মোহ নেই, লন্ডনে সাধারণ চাকরি করেন অক্ষয়-পুত্র প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানকে বাফুফেতে আমন্ত্রণ জানালেন অধিনায়ক আফিদা হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু আ. লীগকেও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত: রাশেদ খান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী সংসদে সরকারি দলের এমপিদের অঙ্গভঙ্গি: তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জামায়াত আমিরের ‘সরকার জ্বালানি সংকট নিয়ে মিথ্যাচার করছে’: সংসদে রুমিন ফারহানা কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একজোট মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিল ইসরায়েলের অকুণ্ঠ প্রশংসায় ট্রাম্প, ঘনাচ্ছে নতুন বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধানলে পুড়ছে আরব অর্থনীতি: জাতিসংঘের সমীক্ষায় ভয়াবহ ধসের পূর্বাভাস

Reporter Name / ১৮ Time View
Update : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসনের জেরে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া তীব্র সংঘাতের চরম মাশুল গুনতে যাচ্ছে গোটা আরব বিশ্ব। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির এক সাম্প্রতিক গবেষণায় যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলের এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আরব দেশগুলোর সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকোচনের মুখে পড়বে, যার হার প্রায় ছয় শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে ওই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন।

চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রথম চার সপ্তাহের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ইউএনডিপি মঙ্গলবার তাদের এই সমীক্ষা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। গবেষণার তথ্যমতে, আরব রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক উৎপাদন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, আর্থিক মূল্যে যার পরিমাণ দাঁড়াবে ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো বিশাল অঙ্কে। যুদ্ধজনিত এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে একদিকে যেমন বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ তলানিতে গিয়ে ঠেকবে, তেমনি নৌপথের পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় গোটা অঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামবে।

অর্থনৈতিক এই বিপর্যয়ের ফলে কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে প্রভাব পড়বে, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। ইউএনডিপির প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়লে নতুন করে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে বাধ্য হবেন। এই বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগবে লেভান্ট অঞ্চল এবং সুদান ও ইয়েমেনের মতো আর্থিকভাবে নাজুক ও ভঙ্গুর দেশগুলোর ওপর। এছাড়া পুরো অঞ্চলে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে স্বল্প দক্ষ শ্রমিকদের বেকারত্বের হার সাড়ে চার শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির কারণে আমদানি-নির্ভর রাষ্ট্রগুলোতে মূল্যস্ফীতি এরই মধ্যে প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করেছে।

তবে এই গভীর সংকটের মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে উত্তর আফ্রিকার কিছু তেল রপ্তানিকারক দেশ সাময়িকভাবে কিছুটা অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। যদিও সার্বিক বিবেচনায় এই প্রলয়ংকরী যুদ্ধ আরব দেশগুলোর কষ্টার্জিত মানব উন্নয়ন সূচককে অন্তত এক বছর পিছিয়ে দেবে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে বড় পরিসরে সামরিক হামলা শুরু করে। এই আগ্রাসনে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে। বসে নেই তেহরানও; পাল্টা জবাব হিসেবে তারা ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে লাগাতার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরানের সুস্পষ্ট অনুমতি ছাড়া এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন, তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category