• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
Headline
বার্ধক্য বুড়ো বয়সে নয়- শুরু হয় আজ: সাতটি সতর্কবার্তা রেলযাত্রায় আসছে বৈদ্যুতিক ট্রেন, মেগা সেতুসহ মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিডের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর শুভেন্দুর ‘ডিপোর্ট’ নীতি মানবাধিকারের লঙ্ঘন: এইচআরডব্লিউ চালের বাজারে কোনো ঊর্ধ্বগতি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের অর্থ পাচার হতে দেওয়া হবে না, সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধ ও সাইবার সুরক্ষার তাগিদ প্রভার এআই ট্রাফিক মামলার আড়ালে ভয়ঙ্কর সাইবার জালিয়াতি ১৫ কোটি রুপি ও প্রাইভেট জেটে এমপি ‘বিক্রি’ হচ্ছে ভারতে: সঞ্জয় রাউত

জ্বালানি সংকট: ‘স্বাভাবিক’ আশ্বাসের আড়ালে পাম্পে হাহাকার, চলছে অলিখিত রেশনিং

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা / ৬৮ Time View
Update : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকারিভাবে রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা এলেও মাঠপর্যায়ে পাম্পগুলোতে চলছে ‘অলিখিত রেশনিং’। রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পে তেলের দেখা নেই, আর যেখানে আছে সেখানেও মিলছে সীমিত আকারে।

মাঠের চিত্র: পাম্প আছে, তেল নেই

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চরম অব্যবস্থাপনা। গাবতলী মাজার রোডের ডেনসো ফিলিং স্টেশনে মোটরবাইকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। ম্যানেজার মো. তুহিন জানান, ৫ দিন পর মাত্র সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন এসেছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।

একই চিত্র কল্যাণপুরের সাহিল ও এসপি ফিলিং স্টেশনে—সেখানে তেলের বোর্ড ‘শূন্য’ ঝোলানো। তবে আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও তার ঠিক উল্টো দিকের পাম্পটি ছিল তেলশূন্য।

কেন এই সংকট?

১. সরবরাহ ঘাটতি: পাম্প মালিকদের অভিযোগ, আগে দৈনিক ৩-৪ গাড়ি তেল পেলেও এখন মিলছে মাত্র এক গাড়ি। ২. ডিপোর কড়াকড়ি: বিপিসি (BPC) সরাসরি রেশনিং না বললেও ডিপো থেকে তেল সরবরাহে কৃচ্ছ্রতা সাধন করছে। ১১টি দেশের সাথে সরাসরি তেল কেনার আলোচনা চললেও মাত্র দুটি দেশ থেকে নিশ্চয়তা মিলেছে। ৩. অবৈধ মজুত: বাড়তি মুনাফার আশায় অনেক পাম্প মালিক তেল মজুত করে রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারের কঠোর অবস্থান: নিয়োগ হচ্ছে ‘ট্যাগ অফিসার’

অবৈধ মজুত ঠেকাতে সরকার প্রতিটি রিফুয়েলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কর্মকর্তারা প্রতিদিনের মজুত রেকর্ড করবেন এবং ডিপো থেকে আসা তেলের পরিমাপ চালান অনুযায়ী মিলিয়ে দেখবেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও জোরদার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: বিকল্প পথে সাশ্রয়

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন মনে করেন, শুধু সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তিনি সরকারের প্রতি কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:

  • সরকারি গাড়ি চলাচল সীমিত করা।

  • সরকারি অফিসগুলোতে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা।

  • স্কুল-কলেজের ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।

মালিক সমিতির আশাবাদ

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম জানান, “যাদের পে-অর্ডার আগে করা আছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আগামী ৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category