একনজরে মূল বিষয়বস্তু:
দ্বিতীয় দফার বৈঠক: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী সোমবার ফের মুখোমুখি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
প্রতিনিধিদলের আগমন: বৈঠকে অংশ নিতে রোববারই ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন দুই দেশের শীর্ষ আলোচকরা।
প্রথম দফার প্রেক্ষাপট: জেডি ভ্যান্স ও বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে প্রথম দফার বৈঠকে কোনো ‘ব্রেকথ্রু’ না হলেও, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।
বর্তমান সমীকরণ: লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় এই বৈঠক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
দীর্ঘ ৪০ দিনের সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে এবার দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের জোরালো মধ্যস্থতায় আগামী সোমবার রাজধানী ইসলামাবাদে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকের প্রস্তুতি ও প্রতিনিধিদল
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র নতুন এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, দ্বিতীয় দফার এই রুদ্ধদ্বার আলোচনায় অংশ নিতে আগামীকাল রোববারই (১৯ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন উভয় দেশের শীর্ষ আলোচক ও প্রতিনিধিরা।
প্রথম দফার ফলাফল ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
এর আগে গত শনিবার ইসলামাবাদেই দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
প্রথম দফার সেই বৈঠকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা বড় ধরনের অগ্রগতি (ব্রেকথ্রু) অর্জিত হয়নি। তবে পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে থাকতে এবং পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছিল। সোমবারের বৈঠকটি তারই ধারাবাহিকতা।
যুদ্ধবিরতি ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই বৈঠকের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। আন্তর্জাতিক সূত্রগুলোর মতে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপের মুখেই দখলদার ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং ইরানে তাদের সামরিক হামলা বন্ধ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় মাত্র দুদিন আগে লেবাননের সঙ্গেও একটি ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায় ইসরায়েল। লেবানন সীমান্তে এই সাময়িক শান্তির প্রতি সম্মান জানিয়েই গতকাল ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করে দেয়।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, সেই পরিবর্তিত ও অনুকূল পরিবেশের মাঝেই সোমবারের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে এই আলোচনা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কোনো শান্তি চুক্তির রূপরেখা বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।