সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর হয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র চাপে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ভেঙে এরনবিল (ইকরাছই) হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের কাছে সুরেশ্বরী নদীর শাখা মনাই নদীর পানির তোড়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আকস্মিক এই ঢলে গ্রামীণ সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় হাওরের কৃষকদের মধ্যে চরম ফসলহানির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই বাঁধের ভেতরে হামিদপুরসহ আশপাশের ৬-৭টি গ্রামের কৃষকদের কয়েকশ একর বোরো ফসলি জমি রয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ওই হাওরে মোট ১১৪ হেক্টর জমি রয়েছে যার মধ্যে এরই মধ্যে ৪০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আকস্মিক পানি ঢুকে পড়ায় ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের শ্রমে ও সম্মিলিত উদ্যোগে বাঁধটি মেরামত করে অবশিষ্ট ফসল রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাওলাদার জানিয়েছেন, এটি মূলত ফসল রক্ষার জন্য নির্মিত কোনো স্থায়ী বাঁধ নয়, বরং একটি জলমহালের তীরের সড়ক যা ঢলের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে নেমে আসা ঢলের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট ফসল ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও বাঁধ মেরামতে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।