৫০ বছর আগে যে খালের খননকাজের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আজ সেই স্মৃতিবিজড়িত উলাসী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন তাঁর ছেলে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে যশোরের শার্শা উপজেলায় নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে এই খননকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি।
উদ্বোধন শেষে খালপাড়েই স্থানীয় অংশীজন ও সুধী সমাজের অংশগ্রহণে এক সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ হাজারো সাধারণ মানুষের ঢল নামে। অনুষ্ঠানস্থল ও এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
খালের গুরুত্ব ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘকাল ভরাট ও অব্যবহৃত থাকায় উলাসী খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিত। খালটির পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী সমাধান আসবে বলে আশাবাদী তারা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রকল্পটি যেন শুধু উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মাঠপর্যায়ে এর প্রকৃত সুফল নিশ্চিত হয়।
৫০ বছর আগের সেই স্মৃতি ও আবেগ
ঐতিহাসিক এই খালটি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে দারুণ আবেগ। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জানান, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একইভাবে কোদাল হাতে শার্শার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ দলে দলে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন। প্রতিদিন শুধু দুপুরে রুটি আর গুড় খেয়ে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছিলেন তারা। মাত্র ছয় মাসে এর খননকাজ শেষ হওয়ার পর ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল খালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন জিয়াউর রহমান।
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে উলাসী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল বারিক মণ্ডল বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে এসে স্কুল মাঠে নামেন। এরপর হেঁটে এসে নিজ হাতে মাটি কেটে আমার ভাই করিম বকস মণ্ডল মেম্বারের মাথায় ঝুড়ি তুলে দেন। এমনকি আমার ভাইয়ের মাথার টোকাও (মাথাল) তিনি নিজে পরে নেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই সেদিন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেছিল।”
আবেগাপ্লুত এই প্রবীণ আরও বলেন, “সেই সময়ে তরুণ ছিলাম, জিয়ার সঙ্গে খাল কাটায় অংশ নিয়েছিলাম। এখন বয়সের ভারে নড়াচড়া করতে পারি না, গায়ের জোর থাকলে আজ জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গেও খাল কাটায় অংশ নিতাম। আশা করি, বাবার মতো ছেলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”
প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী কর্মসূচি
এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে সোয়া ১০টায় যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
শার্শার উলাসী থেকে ফিরে যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহুল প্রতীক্ষিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। দিনের সব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে রাতেই তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।