‘Before you know it, they will be too big to hold and too busy to call.’
‘আপনি বুঝে ওঠার আগেই তারা বড় হয়ে যাবে, কোলে নিতে পারবেন না। ব্যস্ত হয়ে যাবে—ফোন ধরার সময় পাবে না।’
কোন সময়টা সবচেয়ে দ্রুত যায় জানেন?
ওরা চোখের পলকে বড় হয়ে যায়। আজ ডায়াপার চেঞ্জ করছেন, কাল সে বিয়ের পিঁড়িতে বসবে!
ওরা যখন ছোট থাকে, তখন কিছু অবিশ্বাস্য সুন্দর মুহূর্ত তৈরি হয়। আমরা সে মুহূর্তগুলো খুব উপভোগ করি। কিন্তু সেগুলো নিমেষেই মিলিয়ে যায়!
হায়! ছানাগুলো পাখি হয়ে উড়ে যায়—আর কোনোদিন আগের মতো নীড়ে ফিরে আসে না!
আমরা বাচ্চার কিছু মুহূর্তের ছবি তুলে রাখতে পারি বা ভিডিও করতে পারি। তাহলে ও যখন বড় হয়ে যাবে, সেগুলো বারবার দেখা যাবে। ফিরে পাওয়া যাবে ছোট্ট বাবুটাকে।
সম্ভব হলে আপনার বাবুর নিচের মুহূর্তগুলোর ছবি তুলে রাখবেন বা ভিডিও করবেন।
১) জন্মের পর শিশুর টাওয়াল মোড়ানো প্রথম ছবি বা ভিডিও।
২) জন্মের পর শিশু ও মায়ের ছবি বা ভিডিও।
৩) জন্মের পর শিশু, বাবা ও মায়ের একসঙ্গে ছবি বা ভিডিও।
(উপরের তিনটি ক্ষেত্রে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ব্যবহার না করাই ভালো। তাছাড়া, এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।)
৪) দাদা-দাদি, নানা-নানির সঙ্গে প্রথম ছবি।
এরপর ওর আরো কিছু অপূর্ব মুহূর্ত ধরে রাখবেন।
১) ওর প্রথম ঘুমানো। প্রথম কয়েক দিনের হাসি এবং কান্না।
৩) প্রথম বসা। প্রথম হামাগুড়ি। প্রথম হাঁটা।
৪) প্রথম কথা বলা (ভিডিও)।
৭) শুধু প্রথম মুহূর্ত নয়। ওর ছোটবেলার বিভিন্ন রকমের ছবি তুলে রাখবেন। একদিন সেগুলোকে হীরার চেয়ে দামি মনে হবে।
খ) ওরা বড় হয়, জিনিসগুলো বড় হয় না—
ছবি তোলা ছাড়াও কিছু জিনিস যত্ন করে রেখে দিতে পারেন—যেগুলো সারাজীবন ছোটই থেকে যাবে, বাচ্চার সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়ে যাবে না।
১) জন্মের কিছুদিন পর একটি কাগজে ওর ছোট্ট হাতের ছাপ তুলে রাখুন।
২) প্রথম চুল কাটার পর সেগুলোর কিছু একটি প্যাকেটে রেখে দিন।
৩) ওর শিশুকালের পোশাক, খেলনা, বই, ছোট্ট পায়ের এক জোড়া জুতো যত্ন করে রাখুন।
৪) ওর প্রথম লেখা যত্ন করে আলমারিতে তুলে রাখুন।
৫) ওর প্রথম পড়ে যাওয়া ছোট্ট দাঁতটি রেখে দিন।
একটি ছবি দিলাম। আমার মেয়ে, স্ত্রী এবং আমি। আমাদের তিনজনের প্রথম ছবি।
ছবিটি ঝাপসা। ইচ্ছে করলে এডিট করে পরিষ্কার করা যায়। আমি তা করি না। আমি চাই, এই ছবিটি একদম অপরিবর্তিত থাকুক।
হোক না ঝাপসা—বুকের ভেতর তো আসল ছবিটি ঝলমল করছে।