রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধগুলো দমনে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন আইনি কাঠামোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। বিশেষ করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পর নতুন নির্বাচিত সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে বেশ কিছু অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা নাগরিক সমাজে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচিত সরকার সেই অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার পরিবর্তে নতুন যে দুটি খসড়া আইন উপস্থাপন করেছে, তা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচক এবং মানবাধিকার কর্মীদের মতে, নতুন এই খসড়া আইনগুলো মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদারকি ক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিকে মারাত্মকভাবে খর্ব করেছে, যা কার্যত পুরোনো এবং দুর্বল আইনি কাঠামোতেই ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় এই নতুন খসড়া আইনগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বর্তমান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন অংশীজন, মানবাধিকার কর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নতুন খসড়াকে আগের শক্তিশালী অধ্যাদেশগুলোর একটি “জল মেশানো” বা দুর্বল সংস্করণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী প্রশাসন যে স্বাধীন ও ক্ষমতাবান কাঠামোর স্বপ্ন দেখিয়েছিল, নির্বাচিত সরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে তা থেকে পিছিয়ে এসেছে।
গত মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সরকারি দল এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। এমনকি গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি সংসদে উত্থাপন করতেও তারা অস্বীকৃতি জানায়। মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাওয়ার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ২০০৯ সালের পুরোনো আইনটি পুনরুজ্জীবিত হয়, যে আইনে কমিশনের ওপর রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং খবরদারির সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ সেই সংসদ অধিবেশনেই আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জোর দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, গুমকে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করতে এবং মানবাধিকার রক্ষাকারী এই রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আরও ক্ষমতায়িত করতে তারা একটি শক্তিশালী রূপরেখা নিয়ে আসবেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে প্রস্তাবিত খসড়া আইনের বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) সংক্রান্ত নতুন খসড়াটি প্রধানত দুটি বড় কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রথমত, এই খসড়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অন্যান্য সুশৃঙ্খল বাহিনীর (ডিসিপ্লিনারি ফোর্সেস) বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে তদন্ত বা বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়নি। খসড়া অনুযায়ী, সাধারণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন সরাসরি আদালতে জমা দিতে পারবে, যা আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু যখনই অভিযোগের তীর কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর দিকে উঠবে, তখন কমিশনকে ওই বাহিনীর প্রধান অথবা সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদনের জন্য আবেদন করতে হবে। সরকার বা বাহিনীর প্রধানের দেওয়া সেই প্রতিবেদনে কমিশন সন্তুষ্ট হলে মামলাটি সেখানেই বন্ধ হয়ে যাবে। আর যদি কমিশন সন্তুষ্ট না হয়, তবে তারা সর্বোচ্চ কিছু সুপারিশ করতে পারবে, যার জবাব দিতে সরকার ছয় মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারবে।
এই প্রক্রিয়াটি নিয়েই মানবাধিকার কর্মীরা সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। ২০০৯ সালের আইনেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের মতো রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্ত করতে পারত না। তাদের ক্ষমতা কেবল সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যার কারণে কমিশনকে প্রায়শই ‘নখদন্তহীন ব্যাঘ্র’ বলে উপহাস করা হতো। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে কমিশনকে সুশৃঙ্খল বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করার ঐতিহাসিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন খসড়ায় সেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে কমিশনকে আবারও সেই পুরোনো পঙ্গু দশায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অংশীজনরা মনে করছেন।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা হলো কমিশনের গঠনপ্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনকে সরকারি প্রভাবমুক্ত রাখতে এর বাছাই কমিটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সেখানে প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারককে বাছাই কমিটির প্রধান করার কথা বলা হয়েছিল, যার সঙ্গে আইনপ্রণেতা, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকার কর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান ছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কমিশনের শীর্ষ পদে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া, যারা সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।
কিন্তু নতুন খসড়ায় এই গঠনপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এবং চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য যে বাছাই কমিটি হবে, তার প্রধান হবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। এছাড়া এই কমিটিতে থাকবেন আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য, বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন মনোনীত একজন অধ্যাপক এবং রাষ্ট্রপতির মনোনীত একজন নাগরিক প্রতিনিধি। স্পষ্টতই, এই কমিটির কাঠামোতে সরকারের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্পন্ন এমন একটি কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কখনোই রাষ্ট্রের শক্তিশালী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বাধীনভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করতে পারবেন না।
অন্যদিকে, গুম সংক্রান্ত যে আলাদা খসড়া আইনটি উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটিও জন্ম দিয়েছে নানামুখী বিতর্কের। এই খসড়ায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দ্বারা সংঘটিত গুমকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর জন্য সর্বনিম্ন ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এটি আপাতদৃষ্টিতে কঠোর মনে হলেও আইনের প্রয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কারণ, এই খসড়াটি আগের অধ্যাদেশের সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটে গুমের মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলো বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান বাতিল করে দিয়েছে। এর বদলে তদন্তের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আবারও পুলিশের হাতেই অর্পণ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশে সুস্পষ্টভাবে বলা ছিল যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিজস্ব স্বাধীন তদন্ত দলের মাধ্যমে গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত করবে এবং কোনো বাহিনীর সদস্য তার নিজের সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবেন না। কিন্তু নতুন খসড়া আইন পুলিশকে গুমের সব মামলা তদন্ত করা এবং কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করার ক্ষমতা দিয়েছে। এই বিধানের ভয়াবহতা সম্পর্কে অংশীজনরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এর ফলে মাঠপর্যায়ের একজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হয়তো এমন কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে, যিনি পদমর্যাদায় তার চেয়ে অনেক ওপরে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় পুলিশের একজন অধস্তন কর্মকর্তা তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কোনো প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন, এমনটা আশা করা কেবল অবাস্তবই নয়, বরং হাস্যকর।
শাস্তির বিধান নিয়েও মতবিনিময় সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় গুমের জন্য ন্যূনতম ১০ বছরের জেলের যে বিধান রাখা হয়েছে, সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের যুক্তি হলো, অনেক সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ২৪ ঘণ্টার আইনি সীমার বাইরে গিয়ে কাউকে আটকে রাখে, যা কয়েক মাস বা বছর গড়ায় না। এগুলোকে স্বল্পমেয়াদি গুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখন যদি ন্যূনতম শাস্তি ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা আটককৃত ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় মুক্তি দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। কারণ, মুক্তি দিলেই তাদের বিরুদ্ধে গুমের মামলা হতে পারে এবং প্রমাণিত হলে অন্তত ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে। এই ভয়ে তারা আটককৃত ব্যক্তিকে চিরতরে গুম করে দিতে বা হত্যা করতে প্ররোচিত হতে পারেন।
তবে এই খসড়া আইনে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এতে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যেসব বেসামরিক ব্যক্তির হাতে বাহিনীর কমান্ড বা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক নির্দেশনায় গুম সংঘটিত হলে সেই নির্দেশদাতা বেসামরিক ব্যক্তি বা রাজনীতিকরাও এই আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অবশ্য সরকারি এই পদক্ষেপগুলোর কড়া সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। পুলিশের তদন্ত করার ক্ষমতার পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ সব ধরনের বড় বড় অপরাধ তদন্ত করতে সক্ষম এবং তাদের সেই দক্ষতা রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব পদ্ধতিগত এবং রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট গুমের ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলোর বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মাধ্যমে করা হবে। সুতরাং, নতুন আইনের কারণে অতীতের অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে, এমন ভাবার কোনো অবকাশ নেই।
গুমকে একটি “অত্যন্ত সংবেদনশীল” ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করে এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা ঠিক হবে না, যা অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বদলে উল্টো তাদের সুবিধা করে দেয়। তিনি বলেন, “যদি হঠাৎ করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বা এমন কোনো আইন পাস করা হয় যা শেষ পর্যন্ত অকার্যকর প্রমাণিত হয়, এবং যার ফাঁক গলে আসল অপরাধী দায় এড়াতে পারে বা লাভবান হতে পারে, তবে সেই আইন তার মূল উদ্দেশ্য হারাবে।” তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, এমনভাবেই একটি নিশ্ছিদ্র আইন তৈরি করা হবে, যাতে বাংলাদেশে আর কখনোই গুমের মতো বিভীষিকাময় সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এবং গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার।
আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশেষ করে জাতিসংঘের প্রতিনিধি এবং ‘মায়ের ডাক’-এর মতো সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই খসড়া নিয়ে যে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে, তা সরকারের জন্য একটি বড় বার্তা। দেশের সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অপরাধ তদন্তের ভার তাদের নিজেদের হাতেই ছেড়ে দিলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কখনোই দূর হবে না। এখন দেখার বিষয়, প্রবল সমালোচনার মুখে নির্বাচিত সরকার তাদের এই খসড়া আইনে কোনো অর্থবহ পরিবর্তন আনে কি না, নাকি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য মানবাধিকারের সার্বজনীন সুরক্ষার বিষয়টি আবারও খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।