গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক নতুন ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ বন্ধের মূল পরিকল্পনা থেকে সরে গিয়ে এখন তাদের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গাজায় চলমান বর্বরতার মধ্যে পরিস্থিতি জটিল করার জন্য তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী নিকোলাই ম্লাদেনভকে সরাসরি দায়ী করে বলেছে, তিনি বাস্তবতাবিরোধী তথ্য দিয়ে হামাসের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। হামাস স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ইসরাইলকে বাধ্য করার পরেই কেবল অন্য আলোচনা হতে পারে; অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
এদিকে, মিশরে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে নতুন দফায় আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা, যা হামাস সাফ প্রত্যাখ্যান করেছে। গাজাজুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকা এবং হামাসের অস্ত্র ছাড়তে অস্বীকৃতির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনার বিকল্প নিয়েও ভাবছেন মধ্যস্থতাকারীরা। এই আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হামাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন। শীর্ষ পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা খলিল আল-হাইয়া ও খালেদ মাশআল দু’জনই কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব কোনো টেকনোক্র্যাটিক কমিটির হাতে ছাড়ার প্রশ্নে তাঁদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা রয়েছে। এর মাঝেই গত সপ্তাহে হামাসের নতুন সামরিক প্রধান মোহাম্মদ ওদেহকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস ও রামাল্লায় ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমি ও ঘরবাড়িতে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের বর্বর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের সঙ্গে ইউরোপের কূটনৈতিক দূরত্ব এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফ্রান্স সরকার জানিয়েছে, প্যারিসে অনুষ্ঠেয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র প্রদর্শনী ‘ইউরোস্যাটরি’-তে ইসরাইলি কোম্পানিগুলো এবার কেবল আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রদর্শন করতে পারবে এবং তাদের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণও সীমিত থাকবে। ফরাসি এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। মূলত গাজা, লেবানন ও ইরান সংঘাতের পর থেকেই প্যারিস-তেল আবিব সম্পর্ক শীতল হতে শুরু করে, যা এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আরও প্রকট হলো।