ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় রাস্তার পাশে মোটরসাইকেলের সাথে আটকে থাকা অবস্থায় এক যুবকের রহস্যজনক লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মাতুভূঞা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. ইকবাল (২৮)। তিনি স্থানীয় মাতুভূঞা বাজারের গরু ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান মুনাফের ছেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকা ও ব্যবসায়ী মহলে গভীর রহস্য এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার ভোরের দিকে মাতুভূঞা বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশে একটি মোটরসাইকেলের সাথে ইকবালের লাশটি অদ্ভুতভাবে আটকে থাকতে দেখেন তারা। প্রথম দেখায় এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও খুঁটিয়ে দেখার পর ভিন্ন চিত্র বেরিয়ে আসে।
এলাকাবাসীর দাবি, ইকবালের মোটরসাইকেল কিংবা শরীরে দুর্ঘটনার কোনো দৃশ্যমান আলামত বা গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল না। কোনো গাড়ি ধাক্কা দিলে বা মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারালে যে ধরনের ধুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, এখানে তার কিছুই দেখা যায়নি।
স্থানীদের জোরালো ধারণা:
“সম্ভবত গভীর রাতের কোনো এক সময়ে খুনিরা ইকবালকে পরিকল্পিতভাবে অন্য কোথাও হত্যা করেছে। এরপর ঘটনাটিকে সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাশটি কৌশলে তাঁর নিজের মোটরসাইকেলেই আটকে রেখে খুনিরা নিরাপদে পালিয়ে যায়।”
সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোটরসাইকেলটি অক্ষত থাকায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ও মাতুভূঞা বাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।