টেলিফোনে তাঁর গলা ভারী শোনায়।
জিজ্ঞেস করলাম, স্যার আপনার শরীর কি খারাপ?
না, একটু ক্লান্ত লাগছে। অবসন্ন ভাব। ও কিছুনা। বয়স তো আর কম হলো না, অন দা রঙ সাইড অব সেভেন্টি…
একটা কথা বলার অনুমতি চাচ্ছি, স্যার।
ছেলেটি আপনার সাথে দেখা করতে চায়।
সে পরশু জয়েন করবে। ভালো একটি চাকরি পেয়েছে। আপনার সাথে দেখা করে ধন্যবাদ জানাতে চায়। আপনার দোয়া চায়।
তুমি যখন তার কথা আমাকে বলেছিলে তখন আমার শর্ত ছিলো তার সাথে আমার কখনো দেখা হবে না। সে চিনবে তোমাকে, আমাকে নয়।
কিন্তু স্যার, আপনি তার এত বড় উপকার করলেন… সে লিখেছিল…
‘আমার চাকরি খুব দরকার। তাই আমি চাকরির প্রস্তুতি নিতে চাই। কিন্তু খরচ জোগাড়ের জন্য আমাকে চারটা টিউশনি করতে হয়, পড়ার সময় পাই না। আমাকে কি নিরবিচ্ছিন্ন পড়ার জন্য বছরখানেক সাহায্য করা যায়? যাতে টিউশনি করতে না হয়।’
তখন আপনি এগিয়ে এসেছিলেন। তাই সে আপনাকে ধন্যবাদ জানাতেই পারে।
শোনো, একজন বাবা সবচেয়ে বেশি খুশি হয় সন্তানের কাছ থেকে ধন্যবাদ পেলে। আমার একমাত্র ছেলে হয়েছে কুলাঙ্গার। যে বাবা তার একমাত্র সন্তানের কাছ থেকে ধন্যবাদ পায়নি, তার আর কারো ধন্যবাদে মন ভরবে না। তারপরও তাকে বলো, আমি খুশি মনে তার ধন্যবাদ গ্রহণ করেছি। আজ রাতে আমি তার জন্য দুরাকাত শোকরের নফল নামাজ পড়বো।
আই নো ইউ আর অ্যা ভেরি কনভিন্সিং পারসন- মানুষকে কনভিন্স করার ক্ষমতা তোমার আছে। তবে এ ক্ষমতা যাদের থাকে তাদের এটাও বোঝা উচিত কাকে কনভিন্স করা যায় না। তোমারও বোঝা উচিত।
ঠিক আছে। এখন রাখি, ভাল থেকো।
তাঁর কন্ঠ এখন শুধু ভারী শোনায় না, ভেজাও শোনায়…