দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত রহস্যের কোনো কিনারা হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য থাকলেও তা জমা দিতে পারেনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর ফলে আদালত প্রতিবেদন জমার তারিখ আবারও পিছিয়ে আগামী ২২ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা রেকর্ড ১২৭ বারের মতো পেছাল।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। তবে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক এদিন কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত পরবর্তী এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। দেড় দশকের কাছাকাছি সময় ধরে চলা এই দীর্ঘসূত্রতা দেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও হতাশাজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাঁদের পরিচিত ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। আসামিদের মধ্যে তানভীর রহমান বর্তমানে উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন। অন্যদিকে নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল জামিন পাওয়ার পর থেকেই পলাতক। বাকি আসামিরা বর্তমানে এই মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁদের একমাত্র শিশুসন্তান মাহির সারোয়ার মেঘ ঘর থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ ১৪ বছরেও তদন্তের কোনো চূড়ান্ত সুরাহা না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজসহ সাধারণ জনমনে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।