• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
পর্তুগাল–স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র–বেলজিয়াম দ্বৈরথ: কার জয়রথ চলবে কোয়ার্টার ফাইনালে মেয়ের বিয়ে: আমিন চাচার আট পরামর্শ পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি মুলতবি প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্ততি ইসির ফিলিস্তিনকে সমর্থন করায় খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: হুথি মুখপাত্র গাজার শাসনভার ছাড়ার ঘোষণা হামাসের সংসদহীন ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর টিকে থাকার লড়াই

মেয়ের বিয়ে: আমিন চাচার আট পরামর্শ

বাদল সৈয়দ / ১ Time View
Update : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

আব্বার সহকর্মীদের মধ্যে একজনের সাথে আমাদের এখনো খুব ভালো সম্পর্ক আছে। যদিও তিনি বয়সে আব্বার অনেক ছোটো ছিলেন কিন্তু তাদের সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্নেহের। তাঁর নাম আমিনুর রশিদ। আমরা ডাকি আমিন চাচা। তাঁর পড়াশোনার মাত্রা ছিল অতি উঁচু।
আশি পার করেও আমিন চাচা মাশাআল্লাহ এখনো বেশ সুস্থ -সবল। প্রচুর বই পড়েন। ফেসবুকেও বেশ অ্যাকটিভ। মাঝে মাঝে আমার লেখা পড়ে কমেন্ট করেন। মেসেজ পাঠান।
কয়েকদিন আগে তাঁকে দেখতে গেলাম। তিনি অনেকক্ষণ বুকে জড়িয়ে রাখলেন। তারপর কিছুক্ষণ এটা সেটা নিয়ে কথা বলার বললেন- ‘নাতিন তো খোদার রহমতে বড় হয়ে যাচ্ছে। কদিন পর তো বিয়ে দিতে হবে।‘
আমি বিশাল ধাক্কা খেলাম। বিয়ে! আমার মেয়ের বিয়ে! আমি কল্পনাও করতে পারি না আমার মেয়ে আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
চাচা মৃদু হেসে বললেন- কষ্ট পাইলা, বাবা? কিন্তু আজ হোক, কাল হোক মেয়েকে তো বিয়ে দিতে হবে। সেটা তোমার অনেক বড় দায়িত্ব। আর বিয়ে দিলে মেয়েরা দূরে চলে যায় না। কলিজায় যার বাস সে দূরে যায় কী করে?’
আমি আমতা আমতা করে বললাম-‘ ও তো এখনো ছোট। মাত্র একুশ পার করছে।‘
তিনি বললেন- ‘তা ঠিক, তবে যখনই বিয়ে দাও কিছু ব্যাপার মাথায় রেখো। মা-বাবার ভুলের কারণে অনেক মেয়েকে পস্তাতে হয়। পতি ঠিক না হলে পত্নীর অশান্তি অনেক।‘
কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই আমার ঠোঁট থেকে ছিটকে বেরিয়ে একটি প্রশ্ন- ‘কী কী ব্যাপার মাথায় রাখব, চাচা?’
এরপর চাচা অনেক কথা বললেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গুলো তুলে ধরলাম।
১ ) পাত্রের কাঁচা টাকা দেখো না। শিক্ষা দেখো। কাঁচা টাকার দুর্গন্ধ তোমার মেয়ের জীবন অতিষ্ট করে তুলবে। তোমার নানা তোমার বাবার ক্ষেত্রে শিক্ষাই দেখেছিলেন এবং তিনি ঠকেননি।
২) শুধু পাত্র দেখে মেয়ে বিয়ে দেবে না। তার পরিবার কেমন তাও দেখবে। সেই সাথে পারিবারিক পরিবেশ অবশ্যই যাচাই করবে। যে পরিবারের পরিবেশ ভালো নয় সেখানে বড় হওয়া ছেলেমেয়েদের অনেক ধরনের সমস্যা থাকে। এটার জন্য তারা দোষী নয়, তাদের অভিভাবকরা দায়ী। কিন্তু তাদের ভুলের দায় তুমি নিজের মেয়ের মাথায় উঠিয়ে দেবে কেন?
৩) নিজের অবস্থানের চাইতে অনেক পার্থক্য এমন পরিবারে বিয়ে দেবে না। যদি তাদের অবস্থা তোমার চেয়ে বেশি ভালো হয় তবে তারা খুব ডোমিনেটিং হবে। তোমার মেয়েকে যেমন তারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে- তোমাদেরও তাই করবে। সম্বন্ধ করবে সমানে সমানে।
৪) বয়সের অনেক গ্যাপে বিয়ে দেবে না। এর ফলে দুজনের মনের মিল হয় না। একজন আরেকজনকে বুঝতে পারে না। পারার কথাও না। ফলে তাদের মধ্যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়। সংসার সোনায় মুড়ে দিলেও লাভ নেই যদি এ দূরত্ব তৈরি হয়।
৫) ছেলের বর্তমানের সাথে ভবিষ্যৎও বিবেচনা করবে। বলতে পারো, আজ যার ভবিষ্যৎ ভালো মনে হচ্ছে কাল তা তো খারাপ হয়ে যেতে পারে। কথাটা ঠিক। তারপরও যার ভবিষ্যৎ ভালো মনে হচ্ছে তাকে বেছে নাও। যে কোনো ঝুঁকি নেওয়ার সময় আমরা ভবিষ্যৎ ভাবি। মেয়ে পাত্রস্থ করাতেও ঝুঁকি থাকে। এতে লক্ষণ বিবেচনা করবে না কেন?
৬) ছেলে সুদর্শন কি না তা নিয়ে মাথা ঘামিও না। তার আচরণ, আদব-লেহাজ এগুলো বিবেচনায় নাও। এ ব্যাপারে তুমি নিজেই লিখেছ- ‘হ্যান্ডসাম শব্দটির অর্থ একটি প্রাচীন প্রবাদে লুকিয়ে আছে। তাহলো, ভালো মানুষ যা করে তা-ই সুদর্শন।‘ তাই সুদর্শন খুঁজো না। ভালো মানুষ খুঁজো।’
৭) বিয়ের আগে ছেলেমেয়ে দুজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও। এটি খুব জরুরি। কিন্তু আমরা পাত্তা দেই না। দিলে অনেক শিশু থ্যালাসেমিয়া জাতীয় সমস্যা থেকে রক্ষা পেতো।
৮ ) তোমার একটি কথাই রিপিট করি। তুমি লিখেছ- তোমার এক শিক্ষক বলেছিলেন, ‘বাপের নামে আধা, দাদার নামে গাধা, নিজের নামে মহারাজা।‘ তাই বাপ-দাদার পরিচয়ে সম্পর্ক করো না। ছেলের যোগ্যতা দেখো। বাপ -দাদার পরিচয় অবশ্যই দরকার, কিন্তু পরিচয়ই আসল।’
আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম- ‘আপনি কি মনে করেন এগুলো বিবেচনা করলেই বিয়েটা ভালো হবে?’
তিনি হেসে বললেন- ‘বিয়ে হচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদের একটি বই আছে না, কী যেন নাম, মিসির আলির…।‘
‘মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য’- আমিই বাক্যটি শেষ করলাম।
‘ঠিক। বিয়ে হচ্ছে এমন একটি রহস্য যেটার মিমাংসা আগে করা যায় না। আন্দাজ করা যায় না। তারপরও যতদূর সম্ভব সতর্ক থাকা উচিত। প্রতিটি মেয়ে তার বাবার কাছে রাজকন্যা। কিন্তু অপ্রিয় সত্য হলো, প্রতিটি স্বামীর কাছে স্ত্রী রাজরানী নয়। সেজন্য জামাই খুব সাবধানে সিলেক্ট করতে হয়। যাতে মেয়ে শান্তি পায়, সম্মান পায়।
বলতে বলতে চাচা সামনে ঝুঁকে এলেন, বললেন- ‘আমি দোয়া করি তোমরা যাতে আমার নাতনির জন্য সুপাত্রের সন্ধান পাও। তার জীবন যেন রাজরানীর জীবন হয়।’
কী সরল প্রার্থনা! কিন্তু তা আমার কলিজায় এসে বিঁধল। শরীর কেঁপে উঠল- চোখ ঝাপসা হয়ে এলো।
#আসুন মায়া ছড়াই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category