• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

সেমিফাইনালের আগে মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার দুশ্চিন্তা

Reporter Name / ৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে বড় ধরনের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে টানা ১২০ মিনিটের ব্লকবাস্টার লড়াইয়ের পর সোমবার দলের নিয়মিত অনুশীলনে অংশ নেননি এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড।

আর্জেন্টাইন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’ তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মাঠের চেনা অনুশীলনে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন জাদুকরকে পুরোপুরি আইসোলেটেড রেখে পুনরুদ্ধারমূলক (রিকভারি) কার্যক্রমে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল। নকআউট পর্বের অতিরিক্ত সময় পর্যন্তড়ানো ম্যাচের তীব্র ধকল ও ক্লান্তি সামলাতেই মূলত কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে নিয়ে এমন সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ওপর দিয়ে যে মারাত্মক শারীরিক চাপ গেছে, তা স্পষ্ট। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিসরের বিপক্ষে এবং পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে—টানা দুই ম্যাচই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। ফলে স্কোয়াডের অন্য তরুণ খেলোয়াড়দের মতো দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও প্রাণভোমরা মেসিকেও এই বয়সে এসে বাড়তি শারীরিক ধকল ও মাংসপেশির ক্লান্তি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে নিজের নামের পাশে গোলের দেখা পাননি লিওনেল মেসি। তবে গোল না পেলেও দলের জয়ে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে আলেক্সিস মাক আলিস্তারের করা প্রথম গোলটির মূল আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ও জাদুকরী ভূমিকা ছিল তাঁর। এমনকি নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তেও তিনি গোল করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেস জালের দেখা পেলে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে পা রাখে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

সুইজারল্যান্ড বধের ম্যাচ শেষে মেসি নিজেই সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন যে, মাঠের টানা রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের কারণে পুরো দলই এক চরম ক্লান্তি অনুভব করছে। তবে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে সেরা ছন্দে ফিরতে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী তিনি। ম্যাচ শেষেই মেসি বলেছিলেন, ‘আমরা সবাই খুব ক্লান্তি অনুভব করছি, তবে পরবর্তী ম্যাচের আগে যতটা সম্ভব ভালোভাবে নিজেদের পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি। ফাইনালে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করার জন্য আমরা মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেব।’ থ্রি লায়ন্সদের রণকৌশল সামলানোর আগে মেসির এই ক্লান্তি দূর করাই এখন স্কালোনির মূল মিশন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category