• বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
Headline
‘প্রেশারকুকার বোমা’ নিষ্ক্রিয়ের সময় কেঁপে উঠলো এলাকা, পুলিশ বলছে শক্তিশালী বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড চাকরি গেল বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার রাজনীতি নয়, মনেপ্রাণে ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কোকো : রিজভী ইংলিশ কাউন্টিতে ডাক পেলেন শরিফুল ১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ সমাধান সম্ভব নয় : মাহ্দী আমিন বাংলাদেশকে বৈশ্বিক হালাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রূপান্তরের যুগে তরুণরাই সভ্যতার মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী নতুন কমিশনের পর চুপ্পুর দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা: দুদক সচিব পুলিশের ১৯ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার রদবদল

মনোমালিন্য দূর করতে মরিয়া দিল্লি: তারেক-মোদি বৈঠকের তোড়জোড়

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

সীমান্ত সমস্যা, রাজনৈতিক বিবৃতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয় কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা ও মানসিক দূরত্ব কমাতে শীর্ষপর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনাকে প্রধান কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে ভারত। ঢাকায় নতুন সরকার গঠনের পর সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তার কথা বলা হলেও বাস্তবে দিল্লির কিছু পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভারতের আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দিল্লিতে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনের পর দুই রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বাংলাদেশবিরোধী উসকানিমূলক কথাবার্তা এবং ‘পুশইন’-এর নামে ভারতের বাংলাভাষীদের জোরপূর্বক সীমানা পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার কারণে দুই বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশীর সুসম্পর্কে বড় ধরণের দূরত্ব ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিকের দিকে নিয়ে যেতে নরেন্দ্র মোদি সরকার এখন সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, যার প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি শিগগিরই ঢাকা সফরে আসতে পারেন।
দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া বিদ্যমান টানাপোড়েন ও বরফ গলাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি তথা হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে সার্বিক পরিস্থিতি ও ঢাকার বার্তা ভারতের নীতিনির্ধারকদের সরাসরি অবহিত করতে সম্প্রতি তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন। ঢাকায় নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই অভিজ্ঞ এই রাজনৈতিক কূটনীতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত বৈঠকের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। রাজধানীর একটি কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর দীনেশ ত্রিবেদী স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় একসাথে বসলেই বহুমাত্রিক জটিল সংকটের সমাধান সহজ হয়ে যাবে। দুই দেশের জনগণের অভিন্ন ইতিহাস ও সীমান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি একটি লাভজনক ও দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সম্পর্কের পক্ষে জোর সওয়াল করেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং আওয়ামী লীগ জমানার অনেক সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ভারতে আশ্রয় নেন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে দুই দেশের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ শীতল ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জনরায় নিয়ে নির্বাচিত বিএনপি সরকার গঠন করার পর ইতিবাচক সম্পর্ক পুনর্গঠনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণবার্তা পৌঁছে দেন। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি।
তবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলে আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল ও সফরের কার্যকারিতা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। বিশিষ্ট কূটনীতিবিদদের মতে, কেবল একটি আঞ্চলিক ফোরামের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার চেয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল মেনে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের আয়োজন করা অনেক বেশি কার্যকর হবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের এজেন্ডা ও চুক্তি চূড়ান্ত করে সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হলে তা দৃশ্যমান কূটনৈতিক সফলতা এনে দেবে, যা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। চীনে গ্রীষ্মকালীন দাভোসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দলিল স্বাক্ষরের ফলে সেই সফরটি অত্যন্ত অর্থবহ হয়ে উঠেছিল।
বর্তমানে ঢাকার কূটনৈতিক বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার—সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই একটি সম্মানজনক, বিশ্বাসযোগ্য ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ব্রিকসের আউটরিচ সেশনের জন্য বিমসটেক চেয়ারপারসন হিসেবে আমন্ত্রণ এবং দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দুটি আলাদা বিষয়। মোদি সরকারের কাছ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে ভারত যদি পুশইন বন্ধ, সীমান্ত হত্যা রোধ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করে, তবে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির সম্ভাব্য ঢাকা সফরের মধ্য দিয়েই শীর্ষ দুই নেতার বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হতে পারে।

 

তথ্যসূত্র: নয়াদিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category