দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আরও এক হাজার ১৬৫ জনের দেহে সন্দেহজনক হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৯ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
১৫ মার্চ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ও ১৯ হাজার ৯৩৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে মোট ৯০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা ১০০। মোট মৃত্যু হয়েছে ১০০৯ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকায়, ৪২১ জন। এ সময়ে চট্টগ্রামে ২৬২, সিলেটে ১৫৩, বরিশালে ১১৬, খুলনায় ৮৯, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ২৮ এবং রংপুরে ১৪ জন শনাক্ত হয়েছেন।
একই সময়ে হাম সন্দেহে ঢাকায় তিনজন, সিলেটে একজন, রাজশাহীতে একজন, চট্টগ্রামে একজন এবং খুলনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ৭২ হাজার ৪৫৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ হাজার ২২৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে ৪০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রামে মোট সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ১৯৮ জন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৭১১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বরিশালে ১৮ হাজার ৪৭৬, সিলেটে ১২ হাজার ৫৪১, খুলনায় ১০ হাজার ৯৩৬, রাজশাহীতে ১০ হাজার ১৯ এবং ময়মনসিংহে আট হাজার ১৫০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। রংপুরে এ সংখ্যা দুই হাজার ৯৬৬।
এদিকে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত এক কোটি ৯৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩১২ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের কভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ময়মনসিংহে টিকাদানের কভারেজ সবচেয়ে বেশি, ১১৫ শতাংশ। চট্টগ্রামে ১১২ দশমিক ৬, ঢাকায় ১১০ দশমিক ৪, রংপুরে ১০৯ দশমিক ৮, রাজশাহীতে ১০৮, খুলনায় ১০৫ এবং বরিশাল ও সিলেটে ১০৪ দশমিক ৪ শতাংশ করে কভারেজ হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীদের মধ্যে এক লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীদের মোট ভর্তি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৮ হাজার ৫০৫।