বর্তমানে প্রায় সবারই ব্যাক পেইন অর্থাৎ কোমর, পিঠ বা কোমরের ব্যথা হতে পারে। অধিকাংশ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় ব্যাক পেইন বা কোমর ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। আমাদের দেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ সমস্যায় ভুগে থাকেন। ওষুধ ছাড়াও ব্যাক পেইন বা কোমরের ব্যথা নিরাময় করা যায়। এর জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং ব্যায়াম করতে হবে। নিচে ওষুধ ছাড়াও ব্যাক পেইন থেকে মুক্তির সমাধান আলোচনা করা হলো: ১. অফিসে পিঠ সোজা করে বসা: ব্যাক পেইন হলে পিঠ বাঁকাভাবে নয়, সোজা হয়ে বসার অভ্যাস করুন। প্রথমেই আপনাকে যে কাজটি করতে হবে, সেটি হলো পিঠ সোজা করে বসতে ও চলাফেরা করতে হবে। অফিসে বা কর্মক্ষত্রে বসার জায়গাটা যেন উঁচু থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখুন। ২. ঘুমানোর সময় দু’পায়ের নিচে বালিশ: শোয়ার সময় দু’পায়ের নিচে বালিশ বা এ জাতীয় কিছু একটা দিয়ে পা উঁচু করে রাখতে হবে। ৩. ভারি কাজ করা যাবে না: অতিরিক্ত ভারি ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরাও হতে পারে আপনার পিঠে ব্যথার কারণ। ল্যাপটপ যদি অফিসে নিয়ে আসতেই হয় তাহলে এক স্ট্র্যাপের ব্যাগের পরিবর্তে ব্যবহার করুন ব্যাকপ্যাক, যাতে কাঁধ ও পিঠের সব জায়গায় সমান চাপ পড়ে। ভারি পানির বালতি বা ভারি কোনো ব্যাগ বহন করলে ব্যাক পেইন হতে পারে। তাই ভারি কিছু বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ৪. উপযুক্ত বিছানা: যদি আপনার ব্যাক পেইন বা কোমরে ব্যথা থাকে তবে নরম বিছানাকে বিদায় দিতে হবে। খুব বেশি নরম এবং শক্ত বিছানা ত্যাগ করে মিডিয়াম বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস করুন যেন আপনার পিঠ সোজা হয়ে থাকে। উঁচু বালিশ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ডান কাত হয়ে শোয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে পিঠ যেন সোজা থাকে। ৫. বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল: বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ব্যাক পেইন হতে পারে। এক্ষেত্রে লং টাইম বাইসাইকেল চালানো পরিহার করতে হবে। ৬. বেড রেস্ট থেকে বিরত থাকুন। ৭. সেঁক ও বরফ: ব্যাক পেইন সারাতে গরম ও ঠাণ্ডা সেঁক দেয়া পারে। এক্ষেত্রে অনেকদিন ব্যথা থাকলে গরম সেঁক দেয়া পারে। আর আঘাত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা সারাতে ঠাণ্ডা যেতে যেতে সেঁক দিতে হবে। ৮. ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যায়াম: ব্যাক পেইন সারাতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হবে। ব্যথা ভালো হওয়ার জন্য অনেক সময় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিটি ব্যায়াম করার সময় ৬-৭বার গভীর শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। লক্ষ রাখুন শরীরের কোথাও যেন খুব চাপ না পড়ে। সব থেকে ভালো হয় সকালে ব্যায়াম করলে, তবে যদি করা সম্ভব না হয়, তাহলে দিনের যে কোনো সময় ব্যায়াম করে নিন। ৯. আদা-চা: সবার বাড়িতেই মশলা হিসাবে আদা ব্যবহার করা হয়। প্রাচীনকাল থেকে আদা ভেষজ চিকিৎসার একটি অন্যতম উপাদান। আদা চাকা চাকা করে কেটে গরম পানিতে হালকা লবণ ছিটিয়ে আদা চা পান করতে পারেন। এতে তাৎক্ষণিক সজীবতা অনুভব করবেন। ১০. উঁচু হিল থেকে বিরত থাকুন: মেয়েদের পিঠে ব্যথার অন্যতম কারণ হলো উঁচু হিল পরা। উঁচু হিল পরলে আপনার পায়ের উপরে অনেক বেশি চাপ পড়ে, আর এ চাপ সামলাতে মেরুদণ্ডের নিচের অংশ পিছনের দিকে বেঁকে থাকে, যার ফলে বিভিন্ন স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে আর শুরু হয় পিঠে ব্যথা।