মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াবহ থাবায় যখন সারা দেশের জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল, তখন মানুষের জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতে নেওয়া হয়েছিল নানা যুগান্তকারী উদ্যোগ। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছিল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ এবং রোগ নির্ণয়ের অত্যাধুনিক আরটি-পিসিআর ল্যাব। সেই দুঃসময়ে এই চিকিৎসা কাঠামোগুলো দেশের অসংখ্য মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছে। কিন্তু করোনা মহামারির প্রকোপ কমে যাওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের সেই সক্ষমতা ধরে রাখার কোনো উদ্যোগ আর চোখে পড়ছে না। চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি, বরং ডেঙ্গু বা হামের মতো অন্যান্য ভয়াবহ সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় এই যন্ত্রপাতির তীব্র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও চরম অবহেলা, দূরদর্শিতার অভাব এবং পরিকল্পনাহীনতার কারণে সেই সক্ষমতার একটি বিশাল অংশ বর্তমানে পুরোপুরি তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। বিপুল সরকারি বিনিয়োগে গড়ে তোলা ২৪০টি আইসিইউ শয্যা এবং ১৪১টি আরটি-পিসিআর ল্যাব এখন ধুলো জমতে জমতে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশদভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘কভিড ১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি)’ নামক একটি মেগা প্রকল্পের আওতায় এই বিশাল চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রকল্পটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীদের বিষয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ওই সময়ে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া এক হাজার ১৫৪ জন চিকিৎসক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের চুক্তির মেয়াদ গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যায়। এরপর তাদের স্থায়ী করা বা বিকল্প কোনো দক্ষ জনবল পদায়নের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে জনবল সংকটের অযুহাতে দেশের অন্তত ২৫টি সরকারি হাসপাতালে স্থাপন করা দুই শতাধিক আইসিইউ শয্যা এখন পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এমনকি এই প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া এক হাজার চারজন স্বাস্থ্যকর্মী টানা চার মাস ধরে কোনো বেতন না পেয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং চাকরি স্থায়ীকরণ ও বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
দেশের সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জন্য আইসিইউ সেবা এমনিতেই একটি সোনার হরিণ। অথচ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত আইসিইউগুলো শুধু অযত্নে অচল হয়ে পড়ে আছে। অন্তত ১১টি সরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে পাঁচটি হাসপাতালের আইসিইউ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যশোর জেনারেল হাসপাতাল, মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে এখন কোনো সেবাই মিলছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজস্ব হিসাব মতেই, আরও অন্তত ১৪টি হাসপাতালে আইসিইউ পুরোপুরি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কিছু হাসপাতালে নিজস্ব জনবল দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লা জেনারেল ও মেডিক্যাল কলেজ, বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ এবং রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে আইসিইউ চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি অবশ্য মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাটসহ কয়েকটি জেলা হাসপাতালে নতুন করে আইসিইউ চালুর খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৪২টি জেলার ৭৪টি সরকারি হাসপাতালে সর্বমোট এক হাজার ৩৭২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। কিন্তু এই শয্যাগুলোর বণ্টনে রয়েছে চরম বৈষম্য। কেবল রাজধানী ঢাকার ২২টি সরকারি হাসপাতালেই রয়েছে ৭৫৮টি আইসিইউ শয্যা, যা সারা দেশের মোট আইসিইউ সক্ষমতার প্রায় ৫৫ শতাংশ। এর অর্থ হলো, দেশের প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার চরমভাবে উপেক্ষিত। দেশের ২২টি জেলায় সরকারি পর্যায়ে কোনো আইসিইউ সুবিধাই নেই। জেলা পর্যায়ের এই আইসিইউগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বাধ্য হয়ে রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। এতে ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর যেমন অমানবিক চাপ বাড়ছে, তেমনি পথিমধ্যে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। যাদের ঢাকায় আসার আর্থিক বা শারীরিক সামর্থ্য নেই, তাদের বাধ্য হয়েই স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত সীমিত ও মানহীন চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে ভাগ্যের হাতে জীবন সঁপে দিতে হচ্ছে।
করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য ২০২০ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ১৬২টি আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছিল। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সরকারের ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২১১ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে এই ল্যাবগুলোর চিত্র চরম হতাশাজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খাতায়-কলমে ২৩টি ল্যাব সচল দেখানো হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৬২টির মধ্যে ১৪১টি ল্যাবই বর্তমানে পুরোপুরি অকার্যকর। কোথাও রি-এজেন্ট কেনার বাজেট নেই, কোথাও দক্ষ টেকনোলজিস্ট নেই, আবার কোথাও বা মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে। কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবটির করুণ পরিণতি এর একটি বড় প্রমাণ। গত বছরের এপ্রিলে ল্যাবের জানালার গ্রিল কেটে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের পিসিআর যন্ত্র, মনিটর, ডেস্কটপ ও এসি চুরি হয়ে যায়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ বা রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানেও মাসের পর মাস ধরে পিসিআর ল্যাব বন্ধ পড়ে আছে।
অথচ এই আরটি-পিসিআর ল্যাবগুলো শুধু করোনা শনাক্তের জন্যই নয়, বরং যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস, ডেঙ্গুর মতো অন্যান্য জটিল সংক্রামক রোগ শনাক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা গবেষণার কাজে অনায়াসে ব্যবহার করা যেত। কিছু কিছু হাসপাতাল সেই সদিচ্ছা দেখিয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের একটি ল্যাব বর্তমানে যক্ষ্মা ও হেপাটাইটিস শনাক্তে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজেও নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে এই পিসিআর যন্ত্র ব্যবহার করে উন্নতমানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে এই কোটি টাকার যন্ত্রপাতিগুলো দেশের স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নীতি-নির্ধারকদের সেই সদিচ্ছা ও দূরদর্শিতার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
সম্প্রতি সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার বা পিপিআরসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। তাদের গবেষণায় দেশের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের যে বেহাল চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালগুলোর রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতির প্রায় ৫২ শতাংশই গত এক বছরে কোনো ব্যবহারই হয়নি। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো রি-এজেন্টের তীব্র ঘাটতি, যা প্রায় ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। এরপর রয়েছে অকেজো যন্ত্রপাতি (৩৪ শতাংশ) এবং দক্ষ জনবলের অভাব (১৯ শতাংশ)। সরকারি নথিপত্রে যন্ত্রের মাধ্যমে সেবাপ্রাপ্তির হার ৬৫ শতাংশ বলে দাবি করা হলেও, পিপিআরসির গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সেবা মিলছে মাত্র ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে। জেলা হাসপাতালগুলোতে এই হার ৩৩ শতাংশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মাত্র ১৭ শতাংশ এবং খোদ মেডিক্যাল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে এই হার মাত্র ২৫ শতাংশ।
পিপিআরসির গবেষণা প্রতিবেদনে আরও ভয়াবহ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার প্রধানতম কারণ হিসেবে অকেজো যন্ত্রপাতিকেই দায়ী করা হয়েছে (৭৯ শতাংশ)। এর বাইরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে ১৪ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অভাবে ৭ শতাংশ সেবা সরাসরি ব্যাহত হচ্ছে। দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অনুমোদিত পদ রয়েছে ছয় হাজার ৪০৬টি, কিন্তু এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিন হাজার ৮৯২ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ পদই শূন্য পড়ে আছে। শুধু যন্ত্রপাতি নয়, সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার চিত্রটিও অত্যন্ত করুণ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা গড়ে মাত্র ২২ শতাংশ। এর মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ১২ শতাংশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ শতাংশ এবং জেলা হাসপাতালে মাত্র ২৪ শতাংশ ওষুধ রোগীরা পেয়ে থাকেন।
ইআরপিপি প্রকল্পের অধীনে শুধু আইসিইউ বা পিসিআর ল্যাবই নয়, আরও অসংখ্য জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ৩৩টি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ, ১৬টি মেডিক্যাল কলেজে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শিশু আইসিইউ, ১৫টি হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের জন্য প্রসূতি আইসিইউ, ১৯টি হাসপাতালে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব, ৩০টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল বা তরল মেডিক্যাল অক্সিজেন ব্যবস্থা এবং ২০টি হাসপাতালে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপন। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, অনেক অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে এলেও যন্ত্রপাতি কেনাকাটা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের অভাবে তা দিনের পর দিন ঝুলে আছে। অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়া হবে নাকি বর্তমান অবস্থাতেই সমাপ্তি টানা হবে, তা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
স্বাস্থ্য খাতের এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল মনে করেন, অর্জিত সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দূরদর্শিতার ভয়াবহ অভাব রয়েছে। মহামারি থেকে যে অমূল্য অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অর্জিত হয়েছিল, তা ধরে রাখার কোনো সুদূরপ্রসারী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নতুন চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের বদলির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি হারিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে শুরু করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিনষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেছেন যে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছিল, তা বিকল্প কাজে ব্যবহার করার জন্য কোনো রিভিউ কমিটি গঠন না করাটা নীতিনির্ধারকদের চরম ব্যর্থতা। দীর্ঘমেয়াদি কোনো রূপরেখা না থাকায় উন্নত ও দামি যন্ত্রপাতির যেমন অবমূল্যায়ন হচ্ছে, তেমনি সংকটকালে কাজ করে দক্ষ হয়ে ওঠা তরুণ স্বাস্থ্যকর্মীদের অমূল্য অভিজ্ঞতাও বিনা কাজে নষ্ট হচ্ছে। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার এই অপচয় এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চনার এই নির্মম চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অবিলম্বে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ