কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথিত রাজনৈতিক আঁতাত নিয়ে কেন বিএনপি বারবার প্রশ্ন তুলছে, তার নেপথ্য কারণ ও যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিভাজিত করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা শেষ পর্যন্ত পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকেই পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।
শুক্রবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।
রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই জামায়াত শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে ‘ক্ষমা করে দেওয়ার’ মতো সুর শোনা গিয়েছিল। এই ধরনের মনোভাব ও পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান জনমনে বড় ধরনের সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল যখন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে নতুন সংকট তৈরির চেষ্টা করে এবং গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যকে খাটো করে দেখে, তখন ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের পথই সুগম হয়। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দুঃশাসনের শিকার পুরো জাতি, অথচ সেই শক্তির বিষয়ে তাদের এমন অবস্থান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ’
রিজভী আরো জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে পলাতক আওয়ামী চক্র। সেই পরিস্থিতিতে কোনো দল যদি মূল রাজনৈতিক ধারা থেকে সরে গিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে, তবে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজশাহীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেন, পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের অর্থ নিয়ে একটি দল দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এরপরই দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ শুরু হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসি বাংলায় বিএনপির এই অবস্থানের বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন রিজভী।