• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী আমলের ৩১টি বিদ্যুৎ প্রকল্প আর ফিরছে না

Reporter Name / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ আইনে বেসরকারি খাতে অনুমোদন পাওয়া ৩ হাজার ৫৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প নতুন করে জীবিত করার আর কোনো সুযোগ নেই। সৌর, বায়ু এবং বর্জ্যভিত্তিক এই প্রকল্পগুলো দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পুনর্বহালের কোনো আইনি ভিত্তি না থাকায় এগুলো চূড়ান্তভাবে বাতিলের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ বিষয়ে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিশেষ আইনে ওই ৩১টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৬ আগস্ট সেই বিশেষ আইন ও প্রকল্পগুলো বাতিল করে দেয়। বর্তমান বিএনপিদলীয় সরকার ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করতে পিডিবির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করলেও বর্তমান আইনি বাস্তবতায় প্রকল্পগুলো পুনরায় অনুমোদনের সুযোগ নেই। কমিটি খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে।

দরপত্রের মাধ্যমে কম দামে নতুন চুক্তি

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ৩১টি প্রকল্পের মধ্যে ৬টি স্থানে ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের অনুমোদন ও চুক্তি সম্পন্ন করে দিয়ে গেছে। বাকি আরও ৩-৪টি প্রকল্পের স্থানে এখন দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্প দেওয়ায় সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। যেমন—আওয়ামী লীগ আমলে পাবনার ৭০ মেগাওয়াটের সৌর প্রকল্প বিশেষ আইনে প্রতি ইউনিট ১০ দশমিক ১৫ মার্কিন সেন্টে অনুমোদন করা হয়েছিল। অথচ পরবর্তীতে দরপত্রের মাধ্যমে সেখানে প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলকে মাত্র ৭ দশমিক ৯ সেন্টে প্রকল্পটির কাজ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নীলফামারীতে আগের ৯ দশমিক ৯৮ সেন্টের সৌর প্রকল্প কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়ামকে ৮ দশমিক ২৬ সেন্টে এবং কক্সবাজারে আগের ৯ দশমিক ৯৮ সেন্টের ১০০ মেগাওয়াটের সৌর প্রকল্প কনফিডেন্স পাওয়ারকে ৮ দশমিক ০৯ সেন্টে দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের আরেকটি ১০০ মেগাওয়াটের প্রকল্প যেখানে আগের সরকার ৯ দশমিক ৮৯ সেন্টে দিয়েছিল, সেখানে দরপত্রের মাধ্যমে বিএম স্টার ট্রেডিং মাত্র ৬ দশমিক ৫৩ সেন্টে কাজ পেয়েছে। এছাড়া নোয়াখালী ও বাগেরহাটের প্রকল্পগুলোও আগের তুলনায় অনেক কম মূল্যে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪৯ সেন্ট ও ৮ দশমিক ০৯ সেন্টে নতুন করে চুক্তি করা হয়েছে।

বর্জ্য ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প

বাতিল হওয়া তালিকায় সৌরবিদ্যুৎ ছাড়াও ছিল কিছু ব্যয়বহুল বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কসবাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট কেন্দ্র বসিয়ে বর্জ্য থেকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যেখান থেকে প্রতি ইউনিট ১৯ দশমিক ১ সেন্ট চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার কথা ছিল সরকারের। এছাড়া সাতক্ষীরায় ১২ দশমিক ২৪ সেন্টে এবং কক্সবাজারে ১২ দশমিক ২৫ সেন্টে বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো এখন আর থাকছে না। সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এই বাতিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন, যার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াটের নতুন রূপরেখা

সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের দাবি ছিল, এই ৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আসত। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার তাদের নিজস্ব নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণ নতুন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সাজাতে চাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য—২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদন করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে আগের সমস্ত পরিকল্পনা ও নীতিমালা সমন্বয় করে চলতি সপ্তাহেই একটি নতুন কৌশলপত্র বা রূপরেখা প্রকাশ করা হতে পারে। এই নতুন নীতিমালায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে সৌর, বায়ু বা বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বেশ কিছু আধুনিক ও আকর্ষণীয় সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category